নাইক্ষ্যংছড়ি'র বাইশারী ইউনিয়নে পাহাড়-প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে চলছে অবৈধ ৬টি ইটভাটা
দৈনিক বিজয় নিউজ নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ
বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি'র বাইশারী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড কাগজি খোলায় অবৈধভাবে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ৬টি ইটভাটা, যার ৫টি লামা ফাইতং, বগাছডি, ইয়াংছা, মানিকপুর, আলীকদম এসব ইটভাটায় দিনরাত পোড়ানো হচ্ছে প্রাকৃতিক বন থেকে কেটে আনা কাঠ, পাহাড় কেটে আনা হচ্ছে মাটি, উড়ছে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া। সরেজমিনে নাইক্ষ্যংছড়ি'র এলাকায় বিশাল এরিয়া জুড়ে সড়কের এপার ওপার ইটভাটা স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ইটভাটার কারণে কাটা হচ্ছে পাহাড়, কাটা হচ্ছে বন, ধ্বংস হচ্ছে ফসলি জমি। এবং তাদের অভিযোগ, ইটভাটার মালিকরা প্রশাসনকে 'ম্যানেজ করে' এসব চালাচ্ছে। না হয় আজ ১৩বছর ধরে এই অবৈধ ইটভাটা, বৈধতার দাবি নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে। উপজেলা প্রশাসনের এই পর্যন্ত এখানে কোন ধরনের অবৈধ ইটভাটা ভাঙার ক্ষেত্রে তৎপরতা দেখা যায়নি। তাদের অভিযোগ, এই সব অবৈধ ইটভাটা দ্রুত বন্ধের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
ইটভাটার ম্যানেজার বোরহান উদ্দিন বলেন, কৃষি জমি থেকে মাটি ও ইট পোড়ানো কাঠগুলো আমরা বন থেকে সংগ্রহ করে থাকি, কাঁচা ইট তৈরির কারিগর ও ইট পোড়ানোর মিস্ত্রি নোয়াখালী থেকে সিজন অনুযায়ী অগ্রিম দ্বাদন দিয়ে আনতে হয়। ইটভাটার মালিক শামসুদ্দিন বলেন আমি ও আমার শিয়ার হোল্ডার নাজিমুল হক চৌধুরী আমাদের দুজনের ৬টি ইটভাটা রয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি'র কাগজি খোলা, ইয়ংছা, মানিকপুর, আলীকদম, বগাছড়ি, লামা ফাইতং এলাকায় মোট ৬টি ইটভাটা রয়েছে। বিগত ১৩বছর সরকার থাকতে সবাইকে ম্যানেজ করে ইটভাটা করে এসেছি। এখনও ইটভাটা করছি, কিন্তু সন্ধ্যা হলেই রাজনীতির নেতা, সহ আরও অনেকে মোটরসাইকেল নিয়ে এসে বিভিন্ন পরিচয় দেয় তাদেরকেও ম্যানেজ করতে হয়। কিছুদিন আগে বিজিবি আমার একটি লাকড়ির গাড়ি ধরে ফেলে কিন্তু আমার ম্যানেজকৃত লোকেরা বিজিবি থেকে গাড়িটি উদ্ধার করে পুনরায় আমাকে ফিরিয়ে দেয়, তারা আমাদের অনেক উপকার করেছে। আমাদের ইট ভাটায় ইট পোড়ানোর হয় কয়লা এবং লাকড়ি দিয়ে, বিভিন্ন জনের কাছ থেকে এসব লাকড়ি মন হিসাবে ক্রয় করি। কয়লার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন চট্টগ্রাম থেকে আমরা কয়লা ক্রয় করি, কিন্তু উনি কোন ধরনের কয়লা ও কয়লার রিসিভ কপি দেখাতে পারেনি।
বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন পার্বত্য চট্টগ্রামে যে কয়টি ইটভাটা আছে সব অবৈধ। এর কোনোটিরই লাইসেন্স নেই। তাছাড়া পাহাড় কেটে, প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে এগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় বনের গাছ। ফলে এসব ইটভাটা পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধন করে চলেছে।' উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। কিন্তু, নানান সীমাবদ্ধতার কারণেই এই অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের কাছে বড় কোন এস্কাভেটর নেই, যেগুলো দিয়ে চুল্লিগুলো ভেঙে দেওয়া যায়। এ কারণেই শুধু জমিরানা, আর পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে চলে আসা ছাড়া আমাদের কিছু করার থাকে না। সেই সুযোগ নিয়ে ভাটার মালিকেরা আবারও চুল্লি চালু করে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম হাবিবুর রহমান রনি