অনলাইন- এফবিসিসিআইয়ের সভায় অভিযোগ/ শ্যামবাজারে প্রতিদিন লাখ টাকার চাঁদাবাজি

(এফবিসিসিআই)

অনলাইন- এফবিসিসিআইয়ের সভায় অভিযোগ/ শ্যামবাজারে প্রতিদিন লাখ টাকার চাঁদাবাজি
ছবিঃ ই

দৈনিক বিজয় নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকাঃ

শ্যামবাজার থেকে দৈনিক পুলিশ, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের কর্মীরা এক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে। এ বাড়তি আর্থিক চাপ পরিণামে সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই বর্তায় বলে জানিয়েছেন শ্যামবাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন। তিনি আরও বলেন, করপোরেট ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; তারা একই শক্তি, যা বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।

সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন। রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি, মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনাই এ সভার উদ্দেশ্য ছিল।

এফবিসিসিআই ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। নিত্যপণ্য আমদানিকারক, পাইকারি ব্যবসায়ী, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

ফরিদ উদ্দিন তার বক্তব্যে আরও বলেন, “সবাই বলে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। কিন্তু দুই বছর আগে যে দাম বেড়েছে, তা তো রয়েই গেছে। দাম কমেনি। বড় বড় ‘বিগ স্টার’দের সম্পর্কে আমরা কিছু বলতে পারি না, এমনকি সরকারও তাদের প্রতি সহনশীল।”

বাজার বিশ্লেষক কাজী আবদুল হান্নান সভায় বলেন, দেশের ছয়টি অঞ্চলে এক সপ্তাহ ধরে বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিটি বাজার থেকে মাসে ১০ লাখ টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করা হয়, যা পণ্যমূল্যে প্রতিফলিত হয়। রমজানে চাঁদাবাজির মাত্রা আরও বাড়ে। সামনে নির্বাচন থাকায় বাজারে টাকার প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, যা ক্রয়ক্ষমতা ও চাহিদা বাড়িয়ে দিতে পারে। এ সময়ে সরকারি নির্দেশনা ও তদারকিও দুর্বল থাকে।

তিনি আরও সতর্ক করেন, নতুন সরকার যেই আসুক না কেন, রমজানের প্রথম দুই-তিন সপ্তাহ প্রশাসনিক নজরদারি পুরোপুরি কার্যকর না থাকায় সুযোগসন্ধানীদের বাজার অস্থির করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নিউমার্কেট নিত্যপণ্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের বলেন, “দেশের মানুষ এখন ৮ থেকে ১০টি বড় করপোরেট কোম্পানির হাতে জিম্মি। ব্যবসার জন্য চাঁদা দিতে হয় এমন পর্যায়ে যে, তা কারো সাথে শেয়ারও করা যায় না।” তিনি ছোলা, চিনি ও ভোজ্যতেলের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও এ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ব্যবসায়ীদের পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাসেম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু সাঈদ হাসান, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফরোজা রহমান, মেঘনা গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক মো. তসলিম শাহরিয়ার, বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী সুশান্ত কুমার প্রামাণিক, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী খোকন, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা, কাঁচামাল আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইমরান মাস্টার ও বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি মো. ওসমান গণি প্রমুখ।

দৈনিক বিজয় নিউজ/