ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের হার জানাবে ইসি

নির্বাচন কমিশন (ইসি)

ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের হার জানাবে ইসি
ছবিঃ মোঃ নাঈম আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোট গ্রহণের দিন নির্বাচনী পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ভোট প্রদানের হার সংগ্রহ করবে। ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে এ তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হবে। গতকাল সোমবার ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

পরিপত্র অনুসারে, ভোট গ্রহণের দিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু করে বেসরকারি ফলাফল পাওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। ভোট শেষে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত গণনা বিবরণীর ভিত্তিতে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণাকেন্দ্র থেকে প্রকাশ করা হবে।

প্রাথমিক ফলাফল সংগ্রহ ও প্রতিবেদন প্রেরণ:
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, মুঠোফোন নম্বর এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার তথ্য ও নির্ধারিত ইন্টারনাল অ্যাকাউন্ট বা টেলিফোন নম্বর আগেই আলাদাভাবে জানাতে হবে। ভোটের আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট করতে হবে—কারা ফলাফল পাঠাবেন এবং কারা ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে প্রতিবেদন দেবেন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ইন্টারনাল অ্যাকাউন্ট, টেলিফোন, মুঠোফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ সচল আছে কি না, অথবা ইন্টারনাল সাইট/ইন্ট্রানেট, নেটওয়ার্ক বা ক্ষেত্রবিশেষে ই-মেইল ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা আগে থেকেই যাচাই করতে বলা হয়েছে।

বার্তা শিট প্রস্তুত ও প্রেরণ:
ভোট গ্রহণ শেষে নির্ধারিত ‘বার্তা প্রেরণ শিট’-এর মাধ্যমে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ইসি সচিবালয়ের ইন্টারনাল সাইটে পাঠাতে হবে। ইন্টারনাল অ্যাকাউন্টে বার্তা পাঠাতে সমস্যা হলে ই-মেইলের মাধ্যমে ফলাফল পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বার্তা শিটে রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক। কোনো কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বাক্ষর করতে না পারলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তার স্বাক্ষরে আংশিক ফলাফল পাঠানো যাবে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল অবশ্যই রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরে পাঠাতে হবে এবং ইসির নির্ধারিত ফলাফল ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে (আরএমএস) নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপলোড করতে হবে।

এজন্য ওই কর্মকর্তাদের নমুনা স্বাক্ষর সত্যায়িত করে ভোট গ্রহণের আগেই (১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।

ফলাফল ব্যবস্থাপনা ও প্রেরণ:
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বেসরকারি ফলাফল ব্যবস্থাপনার জন্য ইসি সচিবালয়ের ইন্টারনাল সাইটে থাকা ইএমএস সফটওয়্যারের নির্ধারিত মডিউল ব্যবহার করতে হবে। ফলাফল এন্ট্রি ও পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অধীন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগের পাশাপাশি ল্যাপটপ, স্ক্যানার, প্রিন্টার ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

জেলা, উপজেলা ও থানা নির্বাচন অফিসে সরবরাহকৃত গ্রামীণ ও টেলিটকের সিমসংবলিত মডেম ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণাকেন্দ্রে স্থানীয় ইন্টারনেট সেবাদাতার (ISP) মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রত্যেক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রের ফলাফল এন্ট্রির জন্য দুজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করবেন। প্রতিটি ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের জন্য ল্যাপটপ, স্ক্যানার, প্রিন্টার ও নেটওয়ার্ক সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়েও প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করে ল্যাপটপ, স্ক্যানার ও প্রিন্টারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ভোটকেন্দ্রের ফলাফল এন্ট্রি করার সময় একই ভোটকেন্দ্রের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল একসাথে এন্ট্রি নিশ্চিত করবেন।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমেদ