টানা বর্ষণে নাইক্ষ্যংছড়ি জনদুর্ভোগ চরমে, রাস্তা ভাঙন ও পাহাড় ধসের আশঙ্কায় সতর্কতা প্রশাসন!

টানা বর্ষণে নাইক্ষ্যংছড়ি জনদুর্ভোগ চরমে, রাস্তা ভাঙন ও পাহাড় ধসের আশঙ্কায় সতর্কতা প্রশাসন!
ছবিঃ এম হাবিবুর রহমান রনি

দৈনিক বিজয় নিউজ নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণের কারণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সড়কে চলাচলকারী স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, বাজারগামী মানুষ, রোগী ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সংস্কার কাজ চলমান থাকলেও সময়মতো শেষ না হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন শত শত মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া সোনাইছড়ি, দোছড়ি ও বাইশারী এলাকায় খালের পানির তীব্র স্রোতে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এখনো যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়নি, তবে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

অন্যদিকে, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন চার্জ দিতে পারছেন না বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ধস-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে এবং অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলম বলেন, টানা ভারী বর্ষণের কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, দুর্যোগকালীন সময়ে দ্রুত সড়ক মেরামত, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলে জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম হাবিবুর রহমান রনি