অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: প্রয়োজনে মধ্যরাতেও ফোন দিন’—মোহনপুরে এমপি শফিকুল হক মিলন
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর মোহনপুর ও পবা উপজেলায় অবৈধ পুকুর খনন, মাটি কাটা ও সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ না হলে এলাকার পরিবেশ ও কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে মোহনপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই অবৈধ পুকুর খননের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরে এমপি মিলন বলেন, "অবৈধ পুকুর কাটা বন্ধ করতে না পারলে এমন অবস্থা হতো যে, ভারত বা দিল্লি থেকে নৌকা ভাড়া করে আনতে হতো। নৌকা আমদানি করে মোহনপুর ও পবায় দিতে হতো। বিগত সরকারের আমলে যেভাবে অবাধে পুকুর খনন চলেছে, তা অব্যাহত থাকলে এই জনপদের কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবন মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ত।" তিনি আরও বলেন, "আমরা পুকুর কাটার বিপক্ষে নই, আমরা অবৈধভাবে পুকুর কাটার বিপক্ষে। আইন মেনে যেখানে খননের সুযোগ রয়েছে সেখানে সমস্যা নেই। কিন্তু কৃষিজমি নষ্ট করে, পরিবেশ ধ্বংস করে কিংবা নিয়ম ভঙ্গ করে কোনোভাবেই পুকুর খনন করতে দেওয়া হবে না।"
জনগণের সহযোগিতা কামনা করে সংসদ সদস্য বলেন, কোথাও অবৈধভাবে পুকুর খনন, মাটি কাটা বা সরকারি জমি দখলের চেষ্টা হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানাতে হবে। থানার পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) কিংবা প্রয়োজনে সরাসরি তাকেও ফোন করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, "রাত ১২টা, ১টা কিংবা ভোর ৪টা—যে সময়ই হোক, অবৈধ কর্মকাণ্ডের খবর পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অনিয়মের সঙ্গে আপস করা হবে না।" জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের জবাবদিহিতার বিষয়টি তুলে ধরে এমপি মিলন বলেন, "জনগণ তাদের পবিত্র আমানত ভোটের মাধ্যমে আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। তাই আমি সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। কোনো কাজ কেন হয়েছে বা হয়নি—যে কেউ আমার কাছে এসে কৈফিয়ত চাইতে পারেন। আমার দরজা সব সময় সবার জন্য খোলা।" তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকতে হবে। অবৈধ দখল, মাটি কাটা ও পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অডিটোরিয়ামে এসে শেষ হয়। পরে আলোচনা সভা শেষে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে মানবিক সহায়তার চেক, কৃষি বীজ, ঢেউটিন, বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা এবং খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করেন প্রধান অতিথি।
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা, মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশীদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু রহমান, কৃষকদলের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাবলু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার তারিকুল ইসলাম, বিআরডিবির কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান, কেশরহাট পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, যুবনেতা মিজা শওকত আলী, মৌগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী মুকুল, জাহানাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ রাজিব খাঁন