জাসদ গণবাহিনী সদস্য ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আনিস উদ্দিন এর চরমপন্থী সন্ত্রাসী জীবন ৭৫ বছর বয়সেও চলমান

জাসদ গণবাহিনী সদস্য ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আনিস উদ্দিন এর চরমপন্থী সন্ত্রাসী জীবন ৭৫ বছর বয়সেও চলমান
ছবিঃ ইডি

 দৈনিক বিজয় নিউজ চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি:

আনিস উদ্দিন পিতা মৃত মওলা বক্স, গ্রাম কেশবপুর, ইউনিয়ন হারদী,উপজেলা আলমডাঙ্গা, জেলা চুয়াডাঙ্গা। আনিস উদ্দিন মূলত জাসদ গণবাহিনীর কিলিং মিশনের অন্যতম কিলার হিসাবে সন্ত্রাসী জীবন শুরু করেছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে। যার কারণে ১৯৭৩/ ১৯৭৪ সালে রক্ষী বাহিনীর হাতে অস্ত্রসহ ধরা পড়েছিলেন। রক্ষী বাহিনী  এই আনিস উদ্দিন কে দিনের বেলায় আলমডাঙ্গা থানার সম্মুখে গাছের ডালে উল্টো করে ঝুলিয়ে অমানসিক ভাবে প্রহার করেছিলেন, নাকে মুখে মরিচের গুঁড়া মিশ্রিত গরম পানি প্রকাশ্যে ঢেলে দিয়েছিলেন বুকের উপর দাঁড়িয়ে। রক্ষী বাহিনীর এই নির্যাতন এর কথা আজও কেশবপুর, ওসমানপুর, লক্ষ্মীপুর, মোরভাঙ্গা, হাটবোয়ালিয়া, হারদী তথা আলমডাঙ্গা উপজেলার বয়স্ক মানুষ আজও স্মরণ করে। ৭১ পরবর্তী আলমডাঙ্গা উপজেলায় অনেকগুলো গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জাসদ গণবাহিনী নিশংসভাবে হত্যা করে, হারদী ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান খান, মোরভাঙ্গা গ্রামের বাসের  বিশ্বাস, এরশাদপুর গ্রামের ইউসুফ আলী সহ  অনেকগুলো মানুষকে হত্যা করা হয়। এই সমস্ত হত্যাকাণ্ডে আনিছ উদ্দিন কিলিং মিশনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে বয়স্ক সকল মানুষ সাক্ষ্য প্রদান করেন। ১৯৭১ সালে বংশ গতভাবে আনিস উদ্দিন এর সন্ত্রাসী জীবন শুরু হলেও অর্ধবধি তাহা থেমে নেই। বয়সের ভারে এখন আর সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে না পারলেও গ্রামের তথাকথিত এই শিক্ষিত মানুষটা নিজের আপন ভাই এবং চাচাতো ভাইদের মাধ্যমে চরমপন্থী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে এলাকার ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। আনিস উদ্দিন এর পরবর্তী এলাকায় শীর্ষ চরমপন্থী জাসদ গণবাহিনী  হিসেবে তার আপন ভাই শুকুর আলী, জাসদের একজন দুর্ধর্ষক কিলার ছিলেন, পরবর্তীতে আনিস উদ্দিন এর ছোট ভাই, মহিবুল হক মঞ্জিল চরমপন্থী সন্ত্রাসী বিদ্যুৎ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড এর দায়িত্ব পালন করেছেন। এক পর্যায়ে সরকার এবং প্রশাসন চিরুনি অভিযান শুরু করলে আনিস উদ্দিন তার পরিবারের আপন ভাই, নিজের সন্তান, ভাইয়ের সন্তান, সকলকে সৌদি আরব সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দেন, তাদের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র গোপন করে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে একপর্যায়ে সকল সন্ত্রাসী পর্যায়ক্রমে এলাকাতে ফিরে এসে মহিবুল হক মঞ্জিল এর নেতৃত্বে তাসের রাজত্ব কায়েম করে। আনিস উদ্দিন দখল করেন কেশবপুর গ্রামের পূর্ব পাড়ার মসজিদ। পূর্বপাড়া এই মসজিদ থেকেই আনিস উদ্দিন মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করে থাকেন। কেশবপুর গ্রামে প্রায় এক হাজার এর মত রেমিটেন্স যোদ্ধা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন। তাদের কাছ থেকেই আনিস উদ্দিন মসজিদে অনুদানের অজুহাতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকেন। আনিস উদ্দিন নিজেকে মসজিদের আজীবন সভাপতি ঘোষণা করেছেন। এলাকাতে আনিস উদ্দিন এর আপন ভাই মহিবুল হক মঞ্জিল, চাচাতো ভাই মুনসুর আলী চেঙ্গিস, বোনের ছেলে শামসুল, জুবায়ের  এ সকল ব্যক্তিদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালিত হলেও পর্দার আড়াল থেকে সকল কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন কেশবপুর পূর্বপাড়া জামে মসজিদের স্বঘোষিত আজীবন সভাপতি আনিস উদ্দিন (৭৫)। কেশবপুর পূর্ব পাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন জনসাধারণের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকার মাটি বিক্রয় করা হয় ইট ভাটা মালিকদের কাছে। অন্যের জমিতে জোরপূর্বক মৎস্য চাষ করা হয়। এ সকল অপকর্মের পর্দার আড়ালের নায়ক আনিস উদ্দিন। সাম্প্রতি ৫ই আগস্ট এর পরিবর্তনের পর এলাকার মানুষ গডফাদার আনিস উদ্দিন এবং তার সন্ত্রাসী দের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে কয়েক দফা আক্রমণ চালিয়ে এলাকার অর্ধশতাধিক মানুষকে গুরুতর জখম করেছে, এলাকার আধিপত্য ধরে রাখার জন্য। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মনে করেন এ সকল অপকর্মের একমাত্র নির্দেশ দাদা আনিস উদ্দিন। এলাকার বয়স্ক পুরাতন মানুষ সকলেই ঘৃণা ভরে স্মরণ করেন আনিস উদ্দিনের অতীত ইতিহাস। অনেকে এটাও বলেন আনিস উদ্দিনের বাবা মাওলা বক্স,  চাচা মোবারক ও বরকত অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। সেই পাকিস্তান আমলে আনিস এর বাবা এবং চাচা রা জংলি মানুষের মতো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারামারি কাটাকাটিতে লিপ্ত থাকতো, কথিত আছে ভলেন্টিয়ার হয়ে অন্য এলাকায় মারামারি কাটাকাটি তে লিপ্ত হতো। এলাকার সুনাগরিক, সুশীল বুদ্ধিজীবী বিভিন্ন পেশার মানুষ মনে করেন আনিস উদ্দিন এর মৃত্যুর পূর্বে অত্র এলাকা শান্ত হবে না।। অনুসন্ধান চলবে ।

দৈনিক বিজয় নিউজ/  ইডি