কেশবপুরের মঙ্গলকোটে ৩০ জন হতদরিদ্র পেল গবাদিপশু ও গাভী পালন প্রশিক্ষণ

কেশবপুরের মঙ্গলকোটে ৩০ জন হতদরিদ্র  পেল গবাদিপশু ও গাভী পালন প্রশিক্ষণ
ছবিঃ পরেশ দেবনাথ

দৈনিক বিজয় নিউজ কেশবপুর যশোর প্রতিনিধি:

কেশবপুরের মঙ্গলকোটে হতদরিদ্র ও প্রান্তিক নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনকল্যাণমুখী এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন (বিএনএফ)-এর অর্থায়নে এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ভগ্নী নিবেদিতা মঞ্চ (বিএনএম)-এর সার্বিক বাস্তবায়নে সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ‘গবাদিপশু ও গাভী পালন প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য গ্রামীণ নারীদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে টেকসই আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। ​শণিবার (১১ জুলাই-২৬) কেশবপুরের মঙ্গলকোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ভগ্নী নিবেদিতা মঞ্চের সমন্বয়কারী কল্যাণী দে-এর সভাপতিত্বে এবং সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রুমা বেগম-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নারীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ও গঠনমূলক বক্তব্য রাখেন, সংস্থার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য গৌতম কুমার দে। দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত থেকে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবাদিপশু পালন, উন্নত জাতের গাভী নির্বাচন, সঠিক বাসস্থান তৈরি, সুষম খাদ্য ও রোগবালাই প্রতিরোধসহ খামার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন কেশবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল ইসলাম। কর্মশালায় কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল, পাঁচপোতা, শিকারপুর ও পরচক্রা গ্রামের ৩০ জন হতদরিদ্র ও প্রান্তিক মহিলা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৌতম কুমার দে বলেন, আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং নারীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে আত্মকর্মসংস্থানের কোনো বিকল্প নেই। গবাদিপশু ও গাভী পালন শুধু একটি পেশা নয়, এটি গ্রামীণ নারীদের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আপনারা যদি প্রতিটি বাড়িতে ছোট ছোট খামার গড়ে তুলতে পারেন, তবে তা আপনাদের নিজেদের পরিবারকে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশের দুগ্ধ ও মাংসের চাহিদা পূরণে বড় অবদান রাখবে। ভগ্নী নিবেদিতা মঞ্চ সবসময় আপনাদের এই অগ্রযাত্রায় পাশে থাকবে। প্রশিক্ষণ শেষে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে উপকারভোগী নারীরা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। জেসমিন খাতুন বলেন, গাভী পালনের বৈজ্ঞানিক নিয়মগুলো আগে আমাদের জানা ছিল না। আজকের প্রশিক্ষণ থেকে পশুর সঠিক যত্ন ও রোগবালাই দমনের অনেক নতুন বিষয় শিখলাম, যা আমাদের খামার করতে সাহস জোগাবে। রহিমা বেগম তার বক্তব্যে বলেন, আমরা ঘরের কাজের পাশাপাশি পশুপালন করি, কিন্তু সঠিক নিয়মের অভাবে লাভ হতো না। এই প্রশিক্ষণ আমাদের আয়ের পথকে আরও সহজ করে দিবে। পারভীন সুলতানা জানান, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য এই প্রশিক্ষণটি আমাদের খুব দরকার ছিল। এখন আমরা নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য বদলাতে আশাকরি পারবো। নার্গিস আক্তার বলেন, সরকার ও এনজিওগুলোর এমন উদ্যোগ আমাদের মতো অবহেলিত নারীদের সমাজ ও পরিবারে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শেখায়। এই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে আমি একটি আদর্শ খামার গড়ে তুলতে চাই। সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি কল্যাণী দে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ পরেশ দেবনাথ