শ্রীপুরে বিএনপির কর্মীর উপর হামলা, প্রাথমিক সত্যতা পেল পুলিশ
দৈনিক বিজয় নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীপুর (গাজীপুর):
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সোহাদিয়া এলাকায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় কাঠ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হারুন অর রশিদ গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ শ্রীপুর মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হারুন অর রশিদের আটকে রাখা কাঠবোঝাই নছিমন গাড়ি উদ্ধার করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যায় সোহাদিয়া এলাকার খায়েরের মুদি দোকানের সামনে পূর্ব বিরোধের জেরে হারুন অর রশিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তার বাবা নূরুল ইসলামের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের লোকজন লোহার রড, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে হারুন অর রশিদকে গুরুতর আহত করে। এতে তার নাকের হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।
হারুন অর রশিদের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার মা হাছিনা খাতুন, ভাই রুহুল আমিন, বোন নাজমা খাতুন ও ভগ্নিপতি দেলোয়ার হোসেন আহত হন। আহত হারুন অর রশিদকে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, একই ঘটনায় জয়নাল আবেদীন নামে অপর পক্ষ থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন, রাস্তার ওপর গাছ ফেলে রাখার বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে হারুন অর রশিদ ও তার স্বজনরা তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি আহত হন এবং তার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
ঘটনার পর শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর আলমের নির্দেশে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আজিজ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন। তদন্তকালে তিনি হারুন অর রশিদের আটকে রাখা কাঠবোঝাই গাড়িটি উদ্ধার করেন।
এসআই মো. আজিজ বলেন, "ঘটনার খবর পেয়ে আমি রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করি এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনি। যেহেতু উভয় পক্ষ মামা-ভাগিনা, তাই পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে হারুন অর রশিদের ওপর হামলার ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।"
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হারুন অর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ড বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ঘটনার খবর পেয়ে বরমী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এছাড়া বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরাও ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এদিকে, হারুন অর রশিদের পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এর আগেও এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং এ ধরনের কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
শ্রীপুর মডেল থানা জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ আলামিন