কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়ক যেন মরণফাঁদ: চরম দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়ক যেন মরণফাঁদ: চরম দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা
ছবিঃ সুমন আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধি:

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের সামনের সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, স্বজন ও সাধারণ পথচারীরা। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কুমিল্লা জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবার জন্য যাতায়াত করেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন বড় বড় খানাখন্দে ভরা একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ​সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের মূল গেট ও এর আশপাশের সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে, ফলে কোনটা সমতল সড়ক আর কোনটা গভীর গর্ত তা বোঝার কোনো উপায় থাকে না। এতে সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী সব ধরনের যানবাহন অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ও ধীরগতিতে চলাচল করতে বাধ্য হয়।

​সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় মুমূর্ষু রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেল চালকদের। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী রোগী-স্বজনদের অভিযোগ, একজন গুরুতর অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর কথা থাকলেও এই ভাঙাচোরা সড়কের কারণে তা সম্ভব হয় না। বরং ঝাঁকুনি ও অতিরিক্ত সময় লাগার কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রোগীর শারীরিক কষ্ট আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। ​হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর এক স্বজন জোহরা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "হাসপাতালে অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করার জন্য আনা হয়। অথচ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই এই বেহাল সড়ক দিয়ে আসতে গিয়ে রোগী ও আমাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় ঝাঁকুনিতে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। দ্রুত সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করা দরকার।"

​স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে এবং বৃষ্টির দিনে জলাবদ্ধতায় এই সড়কে চলাচল এক প্রকার যুদ্ধয় পরিণত হয়। পথচারী ও চালকদের দুর্গতি দেখার যেন কেউ নেই। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সামনের সড়কের এমন বেহাল দশা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ​এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনদের একটাই দাবি—জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত ও টেকসই পদ্ধতিতে সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। বিশেষ করে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচলের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ ​সুমন আহমেদ