চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী অজিত দাসের বিরুদ্ধে প্রতারণা, হয়রানি ও নানা অনিয়মের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী অজিত দাসের বিরুদ্ধে প্রতারণা, হয়রানি ও নানা অনিয়মের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
ছবিঃ মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন

দৈনিক বিজয় নিউজ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের কালুরঘাট বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় অবস্থিত 'বিএসপি ফুড প্রোডাক্টস'-এর মালিক অজিত কুমার দাসের বিরুদ্ধে প্রতারণা, কর্মসংস্থানে হয়রানি, ভুয়া খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও কর ফাঁকিসহ একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ​স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবসায়ী পরিচয়ের আড়ালে অজিত কুমার দাস নানা ধরনের অনিয়ম ও বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রভাবশালীদের সাথে ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে নিজেকে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে জাহির করতেন। তবে প্রকৃতপক্ষে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নানা ধরনের অনৈতিক কাজ চলত।

​কর্মচারীদের মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তার প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেওয়া একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, অজিত কুমার দাস একজন মামলাবাজ প্রকৃতির লোক। তার প্রতিষ্ঠানে কোনো কর্মচারী কিছুদিন চাকরি করলেই পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হতো। এর ফলে বহু নির্দোষ ব্যক্তি ও পরিবার সামাজিকভাবে এবং অর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ​নিম্নমানের পণ্য ও স্বাস্থ্যঝুঁকি অভিযোগে আরও বলা হয়, বিএসপি ফুড প্রোডাক্টসে উৎপাদিত 'কুকমি ঘি'সহ একাধিক খাদ্যপণ্য অত্যন্ত নিম্নমানের এবং ভেজালে পূর্ণ। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকির তোয়াক্কা না করে এসকল নিম্নমানের ঘি বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

​কর ফাঁকি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সন্দেহ অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে কর ফাঁকির মামলা থাকলেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়ী ভিসা বা অন্যান্য অজুহাতে ঘন ঘন ভারতে যাতায়াত এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানান সন্দেহ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ​শ্যালক হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অজিত দাসের আপন শ্যালক সঞ্জিত দাস (রুগো)-র রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারীদের দাবি, সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করার পর তা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঠিক তদন্ত হলে থোড় থেকে সত্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন স্বজন ও ভুক্তভোগীরা। ​এ সকল অনিয়ম, জনস্বাস্থ্যবিরোধী কাজ এবং আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক সমাজ।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন