মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের লৌহকঠিন অবস্থান: কুমিল্লায় ২৪ ঘণ্টায় ডজন ডজন কারবারি আটক, বিপুল মাদকদ্রব্য জব্দ

মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের লৌহকঠিন অবস্থান: কুমিল্লায় ২৪ ঘণ্টায় ডজন ডজন কারবারি আটক, বিপুল মাদকদ্রব্য জব্দ
ছবি : সুমন আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

​মাদকের করাল গ্রাস থেকে সমাজকে রক্ষায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ এক নজিরবিহীন ও সাঁড়াশি অভিযানের সূচনা করেছে। বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এবং অপরাধের শেকড় সমাজ থেকে সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলতে জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির চরম বাস্তবায়নে জেলাজুড়ে পুলিশ প্রশাসনের এই অনমনীয় হস্তক্ষেপে এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট ও গডফাদারেরা। ​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদকের ছোবল থেকে কুমিল্লার মাটি ও মানুষকে মুক্ত করতে বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত সচেতনতামূলক সমাবেশের পাশাপাশি কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগে থেকেই এসব মাদক কারবারি ও অপরাধ চক্রের গতিবিধির ওপর কঠোর নজর রাখছিল এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করছিল। পূর্বের সেই গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির সূত্র ধরেই মূলত গত ২৪ ঘণ্টার রূঢ় ও আকস্মিক এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়।

​পূর্বের তথ্য ও গোয়েন্দা সূত্র ধরে চালানো এই বিশেষ অভিযানে কুমিল্লার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ৩৪ জন কুখ্যাত কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ​অভিযানকালে অপরাধীদের গোপন আস্তানা ও বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৫৮ পিস মরণনেশা ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪২ কেজি ভয়ংকর গাঁজা এবং ১০ বোতল বিদেশি হুইস্কি। পুলিশি জালে ধরা পড়ার পর ধৃতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে মোবাইল কোর্ট ও সংক্ষিপ্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার (Summary Trial) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কঠোর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

​শুধু মাদকবিরোধী অভিযানই নয়, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শহর থেকে অপরাধীদের আস্তানা ভাঙতেও তৎপর রয়েছে পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে চলমান ছিনতাই প্রতিরোধে পরিচালিত পৃথক বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত ৩ জন ছিনতাইকারী ও চোরকেও পাকড়াও করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ​আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন আনতে এবং যেকোনো মূল্যে সামাজিক অবক্ষয় রোধ করতে পুলিশের এই রক্তচক্ষু ও কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ পুলিশের এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ