প্রাক্তন স্ত্রী রিতা ভট্টাচার্যের অভিযোগ, তৃতীয় সন্তানের গর্ভাবস্থায় কুমার শানুর শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের চিত্র

প্রাক্তন স্ত্রী রিতা ভট্টাচার্যের অভিযোগ, তৃতীয় সন্তানের গর্ভাবস্থায় কুমার শানুর শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের চিত্র
ছবিঃ ই

দৈনিক ভিসা নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকাঃ

জনপ্রিয় ভারতীয় গায়ক কুমার শানু তার সঙ্গীতজীবনের জন্য যেমন আলোচিত, ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ততটাই সোচ্চার ছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী রিতা ভট্টাচার্য তাদের দাম্পত্য জীবনের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে, এমনকি গর্ভাবস্থাতেও তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

ফিল্ম উইন্ডোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিতা জানান, শানুর সঙ্গীতজীবনের সাফল্যের পেছনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর কথায়, ‘শানু একজন দুর্দান্ত গায়ক, কিন্তু মানুষ হিসেবে তাঁর সম্পর্কে যত কম বলা যায়, ততই ভালো। আমি কখনোই উচ্চাভিলাষী ছিলাম না, তবু তাঁকে সামনে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছি।’

মুম্বাইয়ের সংগ্রামী দিনগুলোর স্মৃতি তুলে ধরে রিতা বলেন, ‘আমাদের তখন তেমন কোনো টাকা-পয়সা ছিল না, যাতায়াতেরও সুবিধা ছিল না। শানু লুঙ্গি পরেই ঘুরতেন। তিনি আজও দাবি করেন যে তাঁর পরিবার তাঁকে মুম্বাই পাঠিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে আমরা মাটিতে পাখা ছাড়াই ঘুমাতাম। আমি তাঁকে সংসার চালানোর জন্য লড়াই করতে বাধ্য করেছি।’

রিতার মতে, ১৯৯০ সালে ‘আশিকি’ ছবির মাধ্যমে ব্যাপক সাফল্য পাওয়ার পর শানুর আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। তিনি রুক্ষ হয়ে ওঠেন এবং পরিবার থেকে দূরে সরে যান। এমনকি বড় ছেলে জিকোর বিয়েতেও তিনি কোনো ভূমিকা রাখেননি। রিতা বলেন, ‘তিনি সবসময় আলোচিত হতে পছন্দ করেন—সেটা ইতিবাচক বা নেতিবাচক যেভাবেই হোক। তখন তিনি আমাকে এবং ছেলেদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করতেন, যা খুবই অপমানজনক ছিল।’

গর্ভাবস্থায় নির্যাতনের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে রিতা জানান, তৃতীয় সন্তান জানের সময় তিনি চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা যখন মারা যান, তখন আমি গর্ভবতী। সেই সময় নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। শানু আদালতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেন। গর্ভাবস্থায় একজন স্ত্রীকে আদালতে টেনে আনা—এটা কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে! এ সময় তাঁর অন্যান্য সম্পর্কের কথাও প্রকাশ পায়।’

রিতা আরও অভিযোগ করেন, সে সময় তাঁকে খাবার থেকেও বঞ্চিত করা হতো। ‘একবার তাঁরা বাইরে যাওয়ার সময় রান্নাঘরের স্টোররুম তালাবদ্ধ করে রেখে যান। আমি প্রহরীর মাধ্যমে এক কেজি চাল কিনে নিজেই রান্না করি। গর্ভাবস্থায় আমি খুবই অসহায় ছিলাম। এমনকি আমার সন্তানদের দুধ কিনে দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন, শিশুদের চিকিৎসকের ফিও দেওয়া হতো না,’ বলেন তিনি।

কুমার শানু ও রিতা ভট্টাচার্যের বিয়ে হয় ১৯৮৬ সালে। তাঁদের তিন সন্তান—জিকো, জ্যাসি ও জান। ১৯৯৪ সালে অভিনেত্রী কুনিক্কা সাদানন্দের সঙ্গে শানুর সম্পর্কের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। সন্তানদের দায়িত্ব পান রিতা। রিতার এসব অভিযোগ সম্পর্কে কুমার শানুর কোনো মন্তব্য এখনো জানা যায়নি।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ ই