ভোটের মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ সদস্য; নির্বাচনের আগের ৪ দিন নিবিড় টহল

বিশেষ নিরাপত্তা তৎপরতা

ভোটের মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ সদস্য; নির্বাচনের আগের ৪ দিন নিবিড় টহল
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা; ফাইল ছবি

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগের চার দিন ধরে সারাদেশে নিবিড় টহল ও পাহারা চলবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এ তৎপরতা চালানো হবে। ভোটের পরও আরো দুই দিন এই পাহারা চলমান থাকবে। অর্থাৎ মোট সাত দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকবেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে গত রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেন্ট (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

৯ লাখ সদস্যের মোতায়েন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন বাহিনীর মোট প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে:

  • সেনাবাহিনী: ১ লাখ সদস্য (ভোটের মাঠে সরাসরি থাকবেন)

  • পুলিশ: দেড় লাখের মতো

  • আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী: পৌনে ৬ লাখ সদস্য (সবচেয়ে বেশি)

  • নৌবাহিনী: ৫ হাজার

  • বিমানবাহিনী: ৩ হাজার ৭০০

  • বিজিবি: ৩৭ হাজারের কিছু বেশি

  • কোস্টগার্ড: সাড়ে ৩ হাজারের বেশি

  • র‍্যাব: ৭ হাজার ৭০০

  • ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স: ১৩ হাজারের বেশি

অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

এবারের নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে:

  • অধিক ঝুঁকিপূর্ণ: ৮ হাজার ৭৮০টি

  • ঝুঁকিপূর্ণ: ১৬ হাজার ৫৪৮টি

  • সাধারণ: ১৭ হাজার ৪৩৩টি

প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার

  • বডি ওর্ন ক্যামেরা: এবার প্রথমবারের মতো পোশাকের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা এই ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৫ হাজার বডি ক্যামেরা ব্যবহৃত হবে। এরই মধ্যে ১৯ হাজার সরবরাহ করা হয়েছে।

  • সিসিটিভি ক্যামেরা: সব ভোটকেন্দ্রেই ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা ব্যবহার হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও ডিএমপি এই ব্যবস্থা নেবে।

  • ড্রোন: ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করবে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী।

  • ডগ স্কোয়াড: ডিএমপি, সিএমপি, র‍্যাব ও বিজিবি কুকুরবাহী বিশেষ দল ব্যবহার করবে।

অন্যান্য সিদ্ধান্ত

  • দুর্গম কেন্দ্রে ব্যালট বক্স ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পরিবহনে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার।

  • নির্বাচনে বাধা সৃষ্টিকারীদের গ্রেপ্তার।

  • অপতথ্য ও অপপ্রচার রোধে বিটিআরসি, এনটিএমসি ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের নজরদারি।

  • প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন।

বিশেষজ্ঞের মন্তব্য

সাবেক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য মো. আবদুল আলীম বলেন, "বিভিন্ন বাহিনীর বিপুল উপস্থিতি, সিসিটিভি, বডি ক্যামেরা, ডগ স্কোয়াড ইত্যাদি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যাঁরা অনিয়ম করতে চান, তাঁরা ভয় পাবেন। তবে মাঠে থাকাই যথেষ্ট নয়, কার্যকর ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।"

নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমেদ