সার্জেন্ট মোঃ তাইজাল হক তাজুল ইবি (অবঃ) আসন্ন পে স্কেল  সম্বন্ধে সংগঠনের প্রস্তাবনা এবং পরিকল্পনা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন

সার্জেন্ট মোঃ তাইজাল হক তাজুল ইবি (অবঃ) আসন্ন পে স্কেল  সম্বন্ধে সংগঠনের প্রস্তাবনা এবং পরিকল্পনা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন
ছবিঃ সার্জেন্ট মোঃ তাইজাল হক তাজুল

দৈনিক বিজয় নিউজ প্রতিনিধিঃ

গতকাল ২৫শে জুন, অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী অধিকার পরিষদ বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় সার্জেন্ট মোঃ তাইজাল হক তাজুল ইবি (অবঃ) আসন্ন পে স্কেল  সম্বন্ধে সংগঠনের প্রস্তাবনা এবং পরিকল্পনা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। সংগঠনের তরফ থেকে রাষ্ট্রের পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীতে গঠিত পে কমিটি নিকট যে প্রস্তাবনা সংগঠন তুলে ধরেছিল তাহা সাংবাদিকদের মাঝে বিতরণ করেন। প্রস্তাবনার বিবরণ >> সশস্ত্র বাহিনীতে বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থায় যে বড় ধরনের বৈষম্য বিরাজমান তাহা ফুটে উঠেছে, সংক্ষেপে বর্ণনা হলো মাসিক পেনশন,  জুনিয়র পদবীর সদস্যরা পেনশন বেশি পান এবং সিনিয়র পদবীর সদস্যরা পেনশন কম পান। উদাহরণ>> পূর্বে বা অনেক বছর আগে পেনশন এসেছেন একজন মেজর জেনারেল বা সেনাপ্রধান তিনি পেনশন পান ১৭হাজার,  ১৮ হাজার, টাকা বা তারও সামান্য কমবেশি। অপরদিকে সাম্প্রতি কয়েক বছর পূর্বে বা এখন যে সকল মেজর পেনশন এসেছে বা আসছেন  তাহারা পেনশন পাই ৪০হাজার, ৪৫হাজার, ৫০হাজার বা তারও কিছু কমবেশি। অপরদিকে পূর্বে বা অনেকগুলো বছর আগে যে সকল সম্মানিত ক্যাপ্টেন, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার, ওয়ারেন্ট অফিসার, সার্জেন্ট, কর্পোরাল পেনশন এসেছেন তাহারা মাসিক পেনশন পায় সামান্য ৪ হাজার, ৫ হাজার, ৬ হাজার, ৮ হাজার বা তারও কিছু কমবেশি। অন্যদিকে সাম্প্রতি বছরগুলোতে বা এখন যারা পেনশন এসেছেন বা আসছেন সে সকল সম্মানিত ক্যাপ্টেন, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার, ওয়ারেন্ট অফিসার, সার্জেন্ট, কর্পোরাল, ল্যান্স কর্পোরাল, সৈনিক  মাসিক পেনশন পেয়ে থাকেন >> ১৬হাজার, ১৮হাজার, ২১হাজার, ২৩হাজার বা তারও কিছু কম বেশি। এই পেনশন ব্যবস্থায় সবচাইতে বড় যে ঘটনাটি সেটা হল একজন সিনিয়র জেনারেল যিনি পূর্বে পেনশন এসেছেন তাহার চাইতে বর্তমানে যে সকল কর্পোরাল সার্জেন্ট পেনশন এসেছেন বা আসিতেছেন তাহারা মাসিক পেনশন বেশি পাচ্ছেন, যাহা অত্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সম্মানহানি বিষয়। তাছাড়া বর্তমানে এই দুর্মূল্যের বাজারে বয়োজ্যেষ্ঠ পেনশনারের দুমুঠো ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার কোন ব্যবস্থা নেই। বিধায় অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর অধিকার পরিষদ বাংলাদেশ বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য আবহমান কাল ধরে রেশনিং ব্যবস্থা চালু ছিল,  সেটাকে বন্ধ করে দিয়ে বর্তমানে মাত্র ৩৩ টাকা ৩৩ পয়সা দৈনিক হারে রেশন মানি প্রদান করা হয়, যাহাতেও একজন অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকের দুমুঠো ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার মত ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী অধিকার পরিষদ বাংলাদেশ বারংবার বাংলাদেশ সরকার, রাষ্ট্র এবং সশস্ত্র বাহিনীর কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি নিয়ে শরণাপন্ন হচ্ছেন এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরছেন, সংগঠনটি আশা প্রকাশ করছেন এবারের পে স্কেল এর গেজেটে এবং জেএসআই তে তাদের প্রস্তাবনার ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা করা হচ্ছে,  যদি এবারও বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর  ৩/৪  লক্ষ অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের রেশন পেনশন এর সমস্যা ন্যূনতম ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান না হয় সে ক্ষেত্রে তাহারা সারা বাংলাদেশের সকল অবসর সেনা এবং তাদের পরিবারবর্গের সদস্যদের নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রীর অফিসের সম্মুখে শান্তিপূর্ণভাবে কঠোর  কর্মসূচি পালন করবেন। নিম্নে সামান্য ৪৭০০ টাকায় সংসার না চালাতে পেরে অবসর সেনাদের অটো রিক্সা চালানোর এবং সবজি বিক্রয়ের পেশা  বেছে নিয়েছেন এমন দুজনের ছবি প্রদর্শিত হল।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ ইডি