গোমতী নদীর পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া: সংকটে জনজীবন ও কৃষকের স্বপ্ন
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধি:
ভারতের পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির ফলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের ঘোলা পানির তীব্র তোড়ে ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও জনজীবন আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। কৃষকের সারা বছরের স্বপ্ন এখন ডুবন্ত অবস্থায়।
ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি:
গোমতী চরের উর্বর কৃষি জমিগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে চলেছে। বিশেষ করে রোপা আমন, বিভিন্ন জাতের শাকসবজি এবং মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘোলা পানির নিচে অনেক ফসল পচে নষ্ট হচ্ছে, যা কৃষকদের অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ঋণ নিয়ে যারা চাষাবাদ করেছিলেন, তারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বিপর্যস্ত রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো:
পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে গ্রামীণ অবকাঠামোর ওপর দিয়ে বিপর্যয় বয়ে গেছে। বুড়িচং এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অনেক কাঁচা ও আধা-পাকা রাস্তা ভেঙে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অনেক গ্রামীণ সড়ক পানির তোড়ে উপড়ে গিয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির করে দিয়েছে।
জনজীবনের ওপর প্রভাব:
নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে এবং অনেকের বসতঘর পানির চাপে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির অভাব ও ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় জনজীবনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কৃষকদের আর্তি:
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানিয়েছেন, পানির এই তীব্র স্রোতে তারা কিছুই রক্ষা করতে পারছেন না। রাস্তাঘাট ও ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের জরুরি সহযোগিতা প্রয়োজন। দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সহায়তা প্রদানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তারা। পাহাড়ি ঢলের এই ভয়াবহ তাণ্ডব রুখে দিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনপদকে পুনরুদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ