পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ।
ছবিঃ  মোঃ আল মামুন

দৈনিক বিজয় নিউজ মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধিঃ

মির্জাগঞ্জে কাজ না করেই সরকারি বরাদ্দ টাকা ভাগবাটোয়ারার ও অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। উপজেলার বেশকিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানাযায়,প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেই উন্নয়নমূলক ও মেরামতের কাজের জন্য প্রতিবছরই স্লিপ বাবদ সকল বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার, চাহিদা অনুযায়ী ক্ষুদ্রমেরামত বাবদ ২ লাখ সহ সরকারিভাবে বিভিন্ন বরাদ্দ দেওয়া হয়।ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলোকে দেওয়া হয়েছে আর ১ থেকে দেড় লাখ টাকার বরাদ্দ। উপজেলা শিক্ষক অফিসের তথ্য মতে, ৬ টি ইউনিয়নে মোট ১৪২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর মধ্যে ২১ টিতে ক্ষুদ্র মেরামত এবং ২১ টিতে ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষয়ক্ষতির মেরামতের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কোন কোন বিদ্যালয়ে আবার উভয় বরাদ্দ ও দেওয়া হয়েছে।এসব কাজ তদারকি করে উপজেলা এলজিইডি। এর মধ্যে মির্জাগঞ্জ তালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী মেরামতবাদ ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে দেখাযায়, তেমন কোন কাজ করেনি। কোন মতে ২০-৩০ হাজার টাকার জোড়াতালি দিয়ে ভাউচার দেখিয়ে বিল উত্তোলন করেন প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, কাজ এখনো চলমান। এবিষয়ে আমার অফিস বুঝবে। করমজাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ পায়। কিন্তু এখানো একই দৃশ্য। পুরান একটি রুম দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক বলে, এটা করা হয়েছে।

উত্তর গাবুয়া, মধ্যরামপুর,মধ্য দক্ষিণ কলাগাছিয়া ও আন্দুয়া পিঁপড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশিরভাগ বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা এইরকম। কোন মতে রংয়ের ছিটা দিয়ে , দুই একটা চেয়ার টেবিল দেখিয়ে, দুই একটি ঢেউটিন পরিবর্তন করে বরাদ্দর টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে। সরেজমিনে তদন্তে যার সত্যতা পাওয়া যাবে।বরাদ্দের টাকা ভাগবাটোয়ারার তথ্য মিলে উত্তর কলাগছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে।তিনি জানান, কাজ তদারকি করে এলজিইডি। প্রত্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিতে হয় ১০- ১৫ হাজার,বিলের চেক পেতে শিক্ষা অফিসে রাখে ১০-১৫ হাজার এছাড়া ম্যানেজিং কমিটি রয়েছে, ভ্যাট কাটে । কিন্তু আমাদের তো ভাউচারে শতভাগ কাজ দেখাতে হয়। উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মোঃ সোহাগ বলেন, এসব কাজ তদারকি করেছেন সহকারী প্রকৌশলী মামুন।তিনি বদলী হয়ে রাঙ্গাবলী গেছেন। বদলীকৃত সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মামুনকে ফোন করলে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা বলেন। বিদ্যালয়ে যেয়ে চাপানি খেয়ে আসেন।মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রিয়াজুল হক বলেন, কাজে কোন রকম অনিয়ম করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষকদের থেকে আমরা কোন টাকা পয়সা নেইনি

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ আল মামুন