সুদানে কলেরা রোগের প্রাদুর্ভাবে ১৭২ জনের মৃত্যু
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
উত্তর আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সুদানে কলেরার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহে ২ হাজার ৭০০ জন কলেরায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সুদানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের ৯০ শতাংশই রাজধানী খার্তুমের বাসিন্দা। সম্প্রতি খার্তুমে একাধিক ড্রোন হামলার ফলে পানি ও বিদ্যুৎ সরবাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলার জন্য আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে দায়ী করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরএসএফ-এর সংঘর্ষ চলছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দেশটির দক্ষিণ, মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেও কলেরার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। অতীতে সুদানে কলেরা মহামারি আকারে দেখা দিলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারি উদ্যোগে তা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে যুদ্ধের কারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় আবারও রোগটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। যুদ্ধের ফলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। গত তিন সপ্তাহে ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে গত এক সপ্তাহে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
আরএসএফ-এর ড্রোন হামলায় খার্তুমের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় মানুষ দূষিত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)-এর মতে, এই পরিস্থিতি কলেরার বিস্তারকে ত্বরান্বিত করছে। সুদানের সংঘাত ও অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে কলেরা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খার্তুমে কর্মরত এমএসএফের মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর সোলায়মান আম্মার বলেন, ‘‘বিদ্যুতের অভাবে পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলো কাজ করতে পারছে না। ফলে নীল নদের দূষিত পানি শোধন করে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।’’
কলেরা একটি তীব্র ডায়রিয়া-জনিত রোগ, যা দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। প্রাথমিক চিকিৎসা না পেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তবে পরিষ্কার পানি, সঠিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও সময়মতো চিকিৎসা পেলে এ রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময় সম্ভব।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংসের প্রান্তে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধের কারণে সুদানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখন ধ্বংসের কাছাকাছি। দেশটির ডক্টরস ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের দরুন ৯০ শতাংশের বেশি হাসপাতাল বিভিন্ন সময়ে সেবা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।
যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি
তৃতীয় বছরে পা দেওয়া এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা দেশটিকে মানবিক সংকটের গভীরে ঠেলে দিয়েছে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এমই