নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলেন সুশীলা কারকি

নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলেন সুশীলা কারকি
ছবিঃ রয়টার্স

দৈনিক বিজয় নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকাঃ

নেপালের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নেপালের প্রেসিডেন্টের দপ্তর শনিবার তাঁকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর তিনি রাতেই শপথ গ্রহণ করেন।

৭৩ বছর বয়সী সুশীলা কারকি নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির জন্য তিনি আলোচিত হন।

গত মঙ্গলবার তরুণদের বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সরকারের ২৬টি সামাজিক মাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তরুণরা রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রথম দিনে ১৯ জন নিহত হন। ২০০৮ সালে গৃহযুদ্ধ ও রাজতন্ত্রের অবসানের পর এটাই নেপালের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সহিংসতা, যাতে মোট ৫১ জন প্রাণ হারান।

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দায়িত্ব নেয় সেনাবাহিনী। প্রেসিডেন্ট ও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার পর সুশীলা কারকিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের একজন প্রতিনিধির দাবি, সুশীলা কারকি বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করবেন। বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগই তরুণ প্রজন্মের (জেনারেশন জেড বা জেন-জি) হওয়ায় এই আন্দোলন ‘জেন-জি’ আন্দোলন নামে পরিচিতি পায়।

সুশীলা কারকির কোনও রাজনৈতিক অতীত নেই। তিনি ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন।

কে পি শর্মা অলির বর্তমান অবস্থান অজানা। তাঁর সরকারের সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তই বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটায়, যদিও বেকারত্ব, দুর্নীতি ও তরুণদের প্রতি অবহেলার মতো দীর্ঘদিনের অসন্তোষই এটির পেছনে কাজ করে।

বিক্ষোভের সময় বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবন ও বেশ কয়েকজন মন্ত্র এর বাড়িতে আগুন দেয়। পুলিশ এর কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। এ বিদ্রোহের ফলে দেশজুড়ে প্রায় ১৩,৫০০ বন্দী পালিয়ে যান, যার মধ্যে ১২,৫৩৩ জন এখন ও আটকাতে পারেননি।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র বিনোদ ঘিমিরে নিশ্চিত করেছেন, সহিংসতায় ৫১ জন নিহত ও ১,৩০০ জন আহত হয়েছেন। সেনাবাহিনী এখন পুলিশের সঙ্গে করে ছিনতাইকৃত অস্ত্র উদ্ধার করছে; এখন পর্যন্ত ২৬৮টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে。

রাজধানী কাঠমান্ডুর পরিস্থিতি শান্ত হতে শুরু করেছে। কিছু দোকানপাট খুলেছে এবং রাস্তায় গাড়ি চলাচল করছে। পুলিশ এখন বন্দুকের  পরিবর্তে লাঠি নিয়ে করছে, এবং সেনাসদস্যরাও  টহল এর সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন।

দৈনিক বিজয় নিউজ/