নেপালে সুশীলা সরকারপ্রধান হওয়ার দিনই জানানো হলো জাতীয় নির্বাচন কবে
দৈনিক বিজয় নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকাঃ
নেপালের রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাওদেল তাকে এই দায়িত্বে নিয়োগ দেন । এতে নেপালের ইতিহাসে কোনো নারী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন । তাঁর নেতৃত্বে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে ।
সুশীলা কারকির শপথগ্রহণ ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠন
সুশীলা কারকি স্থানীয় সময় রাত ৯টার পর কাঠমান্ডুর রাষ্ট্রপতির বাসভবন শীতল নিবাসে শপথ গ্রহণ করেন । শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি পাওদেল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি, সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বিদেশি কূটনীতিকরা । শপথগ্রহণের পরপরই তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দেন এবং ২০২৬ সালের ৫ মার্চ নির্বাচন করার ঘোষণা দেন ।
সুশীলা কারকির পেশাগত পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
৭৩ বছর বয়সী সুশীলা কারকি নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি । তিনি ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় এক বছর এই দায়িত্ব পালন করেন । দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর "শূন্য সহিষ্ণুতা" নীতি তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে । বিশেষ করে, সাবেক মন্ত্রী জয়প্রকাশ গুপ্তাকে দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার মামলাটি উল্লেখযোগ্য । তাঁর এই সৎ ও দৃঢ় জেন-জি আন্দোলনকারীদের对他 আস্থা ।
জেন-জি আন্দোলন ও সুশীলা কারকির নিয়োগ
গত ৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির সরকার ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম বন্ধ করে দিলে তরুণ প্রজন্ম বিক্ষোভে ফেটে পড়ে । এই বিক্ষোভ "জেন-জি আন্দোলন" নামে পরিচিতি পায় । বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের ফলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে । এরপরিপ্রেক্ষিতে অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন । এই সংকট সমাধানে রাষ্ট্রপতি পাওদেল ও সেনাপ্রধান সিগদেল বিক্ষোভকারী তরুণদের আলোচনা করেন । আলোচনার পর ১২ সেপ্টেম্বর সুশীলা কারকিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় । জেন-জি আন্দোলনকারীরা রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহকে এই দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করলেও তিনি রাজি হননি । পরে তারা ভার্চুয়াল ভোটের মাধ্যমে সুশীলা কারকির নাম প্রস্তাব করে ।
অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা
সুশীলা কারকির নেতৃত্বে গঠিত হচ্ছে তিন সদস্যের একটি মন্ত্রিপরিষদ । তবে মন্ত্রীদের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি । এই সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টি করা । ইতিমধ্যে, সুশীলা কারকি সরকার দেশজুড়ে কারফিউ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে । ফলে নেপাল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে ।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সুশীলা কারকিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন । তিনি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে তাঁর দায়িত্বগ্রহণকে নেপালের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেছেন । তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সুশীলা কারকির দক্ষ নেতৃত্বে নেপাল শান্তি, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাবে ।
সারসংক্ষেপ
নেপালের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য সুশীলা কারকির নেতৃত্বকে একটি ইতিবাচক Schritt হিসেবে দেখা হচ্ছে । তাঁর সততা, দক্ষতা দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এই সংকটকালে নেপালের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে । সকলের আশা, তাঁর নেতৃত্বে নেপাল একটি শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সক্ষম হবে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ ই