প্রথম কার্যনির্বাহী সভায় সিনেটে পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি ঠিক করল ডাকসু

প্রথম কার্যনির্বাহী সভায় সিনেটে পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি ঠিক করল ডাকসু
ছবিঃ ই

দৈনিক বিজয় নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকাঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে প্রতিনিধিত্বকারী পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়।

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়সংলগ্ন সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভার মাধ্যমে ডাকসুর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

সভার উপস্থিতি ও কর্মবিবরণী:

সভায় ডাকসুর নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মুহা. মহিউদ্দীন খান, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা এবং ছাত্র পরিবহন সম্পাদক মো. আসিফ আবদুল্লাহসহ মোট ২৭ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এই সভায় অনুপস্থিত ছিলেন।

সভার শুরুতে উপাচার্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং প্রতিনিধিরাও উপাচার্যকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর সকলেই পরস্পরের সাথে পরিচিত হন।সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন:

সভায় ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে প্রেরিত পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত করা হয়। তারা হলেন:

  1. আবু সাদিক কায়েম (ভিপি)

  2. এস এম ফরহাদ (জিএস)

  3. মুহা. মহিউদ্দীন খান (এজিএস)

  4. মো. আসিফ আবদুল্লাহ (ছাত্র পরিবহন সম্পাদক)

  5. সাবিকুন্নাহার তামান্না (সদস্য)

এই প্রতিনিধিদের নাম শীঘ্রই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়।

প্রতিনিধি নির্বাচনের যুক্তি:

সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ব্যাখ্যা করেন যে, পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার আলোকে ভিপি, জিএস এবং এজিএসকে সিনেটে প্রতিনিধি করা হয়েছে। এছাড়া, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সমস্যা তুলে ধরার জন্য ছাত্র পরিবহন সম্পাদক এবং ছাত্রীদের সমস্যা উপস্থাপনের জন্য সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্নাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নেতাদের বক্তব্য:

  • এস এম ফরহাদ জানান যে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে।

  • আবু সাদিক কায়েম জোর দিয়ে বলেন যে নির্বাচিত ব্যক্তিরা "নেতা" নন, বরং "প্রতিনিধি"। তাদের মূল কাজ হলো শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, একাডেমিকক্যাম্পাসের বাইরের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকা। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে "জুলাই প্রজন্ম" ও "শহীদদের আকাঙ্ক্ষা" বিজয়ী হয়েছে।

পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি:

নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আগামী এক বছরের জন্য একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করবেন এবং দ্রুত তা বাস্তবায়ন শুরু করবেন। তাদের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান及স্বার্থ রক্ষায় একত্রিতভাবে কাজ করা।

এই সভার মাধ্যমে ডাকসু তার ঐতিহাসিক ভূমিকা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/