মুফতি ফয়জুল করীমের সমর্থনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেন জামায়াতের নেতা।

বরিশাল-৫ আসন

মুফতি ফয়জুল করীমের সমর্থনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেন জামায়াতের নেতা।
ছবিঃ মোঃ নাঈম আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ 

বরিশাল-৫ (সদর-সিটি করপোরেশন) আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুয়াযযম হোসাইন (হেলাল) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে তিনি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে এ প্রত্যাহার সম্পন্ন করেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম প্রার্থী হওয়ায়, জামায়াত কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয় তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে ইসলামী আন্দোলনের নেতার প্রতি সম্মান জানাতে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুয়াযযম হোসাইন প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ান।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর মুয়াযযম হোসাইন বলেন, ‘জামায়াতের আমীরের নির্দেশে ও সৌজন্যতার খাতিরে মুফতি ফয়জুল করীমের আসন থেকে আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি। আমাদের যেসব ভাই আমাদের ছেড়ে গেছেন (জোটে যাননি), তাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ এ সিদ্ধান্তের ফলে বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে জামায়াত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর আগে বরিশাল-৩ আসনে এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ভূইয়া ফুয়াদকে সমর্থন দিয়ে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন জেলার সবকটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম জামায়াতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। এর আগেও আমরা জামায়াত আমীরের আসন ও খেলাফত মজলিসের মামুনুল হকের আসনে প্রার্থী না দিয়ে সৌজন্যতার নজির রেখেছি। মতভিন্নতা থাকলেও রাজনৈতিক সৌহার্দ্য বজায় রাখা প্রয়োজন।’

গত ১৮ জানুয়ারি জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফয়জুল করীমের আসনে প্রার্থী না দেওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের জানান, সৌজন্যতার খাতিরেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মুয়াযযম হোসাইনের প্রার্থী প্রত্যাহারে বরিশাল-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ফয়জুল করীম ও বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরওয়ারের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে ভোট বিভাজন রোধে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী সমঝোতা আলোচনা চলছিল। তবে আসন বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত মতবিরোধের কারণে ইসলামী আন্দোলন জোটে না গিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমেদ