কুমিল্লায় কাভার্ডভ্যানে ডাকাতি: ১ জনের ৭ ও ৪ জনের ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

কুমিল্লায় কাভার্ডভ্যানে ডাকাতি: ১ জনের ৭ ও ৪ জনের ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
ছবিঃ সুমন আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় কাভার্ডভ্যানের গতিরোধ করে ফিল্মি কায়দায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের আলোচিত ডাকাতি মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত একজনকে সাত বছর এবং অপর চারজনকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ​বুধবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম আদালত)-এর বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া।

​দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— বরুড়া উপজেলার মহিদপুর গ্রামের মো. বাবুল মিয়া (যাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে), জয়নাল আবেদীন ওরফে জনু, এবং মিজান (পলাতক)। এছাড়া একই উপজেলার ঝলম গ্রামের মো. আব্দুল মালেক ও ওয়াশকুরুনী (পলাতক) এই সাজা পেয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় মিজান ও ওয়াশকুরুনী পলাতক ছিলেন। ​মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ মে বিকেলে বরুড়া উপজেলার ঝলম-আড্ডা সড়কে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির একটি কাভার্ডভ্যানের পথরোধ করে সশস্ত্র একদল ডাকাত। এ সময় তারা চালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর চালায় এবং সিগারেট বিক্রির নগদ ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৯ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন জোরপূর্বক লুটে নিয়ে পালিয়ে যায়।

​এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সেলস ম্যানেজার কবির হোসেন বাদী হয়ে বরুড়া থানায় অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা দীর্ঘ তদন্ত শেষে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেন এবং সুনির্দিষ্ট পাঁচজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯৫, ৩৯৭ ও ৪১২ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ​বিচার চলাকালীন আদালত রাষ্ট্রপক্ষের মোট আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং উভয় পক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালত এই রায় প্রদান করেন।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ