ভয়ংকর কিলিং মিশন: আনোয়ার হোসেন মেম্বার হত্যা মামলার সেই দুর্ধর্ষ খুনি পিন্টু অবশেষে জালে!

ভয়ংকর কিলিং মিশন: আনোয়ার হোসেন মেম্বার হত্যা মামলার সেই দুর্ধর্ষ খুনি পিন্টু অবশেষে জালে!
ছবি : সুমন আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

​রক্তাক্ত এক অধ্যায়ের মূল কুশীলব অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে। কুমিল্লার বাঙ্গরাবাজার থানার চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক আনোয়ার হোসেন মেম্বার হত্যা মামলার সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া অন্যতম প্রধান এজাহারনামীয় আসামি মো. পিন্টু মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির নিবিড় ব্যবহার এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করা হয়। ​তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উত্তর পেন্নাই এলাকায় নিজের বসতবাড়িতেই চরম হিংস্রতার শিকার হন আনোয়ার হোসেন মেম্বার। পূর্বশত্রুতার জেরে ঘাতকরা এক রোমহর্ষক ও বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করে। ওই দিন ১৯ জন এজাহারনামীয় সন্ত্রাসীসহ অজ্ঞাত আরও ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। পৈশাচিক ওই হত্যাযজ্ঞে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে রক্তে ভেসে যায় চারপাশ।

​চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর পরই নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগম বাদী হয়ে বাঙ্গরাবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম-এর সরাসরি তত্ত্বাবধান ও অত্যন্ত কঠোর দিকনির্দেশনায় বাঙ্গরাবাজার থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম মাঠে নামে। দীর্ঘ ছায়াতদন্ত এবং কঠোর গোয়েন্দা নজরদারির পরই পুলিশ এই সাড়াজাগানো সাফল্য অর্জন করে। ​পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত পিন্টু মিয়া (পিতা: মৃত ধবীর মুন্সি, সাং: উত্তর পেন্নাই) এই ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা অকপটে স্বীকার করেছে। ​বর্তমানে ঘাতক পিন্টুকে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা এবং কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেওয়া বাকি পলাতক আসামিদেরও খুব শীঘ্রই আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। তাদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ