সকল বাধা পেরিয়ে পরিবারের প্রথম চিকিৎসক সিমা, আনন্দে আত্মহারা রামচন্দ্রপুরবাসী

সকল বাধা পেরিয়ে পরিবারের প্রথম চিকিৎসক সিমা, আনন্দে আত্মহারা রামচন্দ্রপুরবাসী
ছবিঃ মোঃ আবদুল্লাহ

দৈনিক বিজয় নিউজ কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ৮ নং ভারেল্লা উত্তর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর নোয়াপাড়া গ্রামে এখন বইছে আনন্দের জোয়ার। গ্রামটির সাধারণ পরিবারের সন্তান সিমা আক্তার ডাক্তারি পরীক্ষায় অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে অর্জন করেছেন এলাকার প্রথম চিকিৎসক হওয়ার বিরল গৌরব। এক মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হয়েও নিজের অদম্য ইচ্ছা, কঠোর পরিশ্রম আর একাগ্রতার জোরে তিনি আজ পৌঁছেছেন স্বপ্নের দোড়গোড়ায়। তাঁর এই অর্জনে শুধু তাঁর পরিবার নয়, পুরো রামচন্দ্রপুর গ্রামের মানুষ এখন গর্বিত ও আনন্দিত।

একটি গ্রামীণ পরিবেশ থেকে এসে চিকিৎসা শাস্ত্রের মতো কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সহজ কথা নয়। দীর্ঘদিনের পথচলা, দিনরাত এক করে পড়াশোনা আর অধ্যাবসায়ের পর আজ সিমা আক্তার তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছেন। তিনি তাঁর পরিবারের মধ্যেও প্রথম চিকিৎসক। মেয়ের এই মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় পেয়ে সবচেয়ে বেশি আবেগপ্লুত তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজন। গ্রামজুড়ে এখন তাঁর এই সাফল্যের গল্প সবার মুখে মুখে ফিরছে।

মেয়ের এমন অসাধারণ অর্জনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রামচন্দ্রপুর নোয়াপাড়া গ্রামের মোঃ বিল্লালের বাড়িতে নেমে আসে উৎসবের আবহ। শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রতিনিয়ত ছুটে আসছেন তাঁকে একনজর দেখতে ও শুভেচ্ছা জানাতে। সম্প্রতি তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে ও সরাসরি অভিনন্দন পৌঁছাতে তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হন স্থানীয় ভারেল্লা উত্তর ইউনিয়নের সদস্য ও ইউনিয়ন যুবদলের নেতা জাহাঙ্গীর আলম মেম্বার এবং রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন। তাঁরা ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে সিমা আক্তারের হাতে সম্মাননা ও ভালোবাসা তুলে দেন।

বাড়ি পরিদর্শনের সময় ও নবীন চিকিৎসককে অভিনন্দন জানিয়ে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সিমা আক্তারের এই প্রাপ্তি পুরো বুড়িচং উপজেলার জন্য এক দারুণ দৃষ্টান্ত। গ্রামের একটি মেয়ে যেভাবে নিজের মেধা দিয়ে এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা যেকোনো তরুণ-তরুণীর জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা। তিনি সিমা আক্তারের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, পেশাগত জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য এবং আগামী দিনে মানবসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মেধার পরিচয় দিয়ে অর্জিত এই সাফল্য কেবল একটি পরিবারের আনন্দেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা যেন পুরো বুড়িচং উপজেলার নতুন প্রজন্মের মাঝে এক নতুন স্বপ্নের বীজ বুনে দিয়েছে। এলাকার অভিভাবকরা এখন তাঁদের সন্তানদের সামনে সিমা আক্তারকে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরছেন। কঠোর চেষ্টা আর সততা থাকলে যে যেকোনো প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব, সিমা আক্তার তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।

পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে ডা. সিমা আক্তার সততা, নিষ্ঠা ও গভীর মানবিকতার পরিচয় দেবেন। একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি যেন সবসময় অসহায় ও অসুস্থ মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে পারেন এবং নিজের কর্মের মাধ্যমেই যেন রামচন্দ্রপুর গ্রাম ও বুড়িচং উপজেলার নাম আরও উজ্জ্বল করতে পারেন, সেই প্রার্থনাই করছেন সবাই।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ আবদুল্লাহ