আদালতের নির্দেশে বাইশারীর লম্বাবিলে জমি পরিমাপ, বিবাদীদের বাধার অভিযোগ!
দৈনিক বিজয় নিউজ নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাবিল এলাকায় ১০৬ নম্বর খতিয়ানের হোল্ডিং নম্বর নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে বিরোধপূর্ণ জমি পরিমাপ ও স্কেচ ম্যাপ তৈরির কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। জানা যায়, ওই এলাকার আবদুল্লাহ ১০৬ নম্বর খতিয়ানের হোল্ডিং নম্বর নির্ধারণের জন্য আদালতে ১১১/২০২৫ নম্বর মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাদী ও বিবাদীর জমির সীমানা ও চৌহদ্দি অস্পষ্ট থাকায় আদালত বিরোধপূর্ণ জায়গার স্কেচ ম্যাপ তৈরির জন্য বান্দরবান জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ জুলাই বান্দরবান জেলা ডিবি পুলিশের সদস্য লোফ ছোহান এবং ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. ইব্রাহিম সরেজমিনে তদন্তে যান। এ সময় উভয় পক্ষকে জমির খতিয়ানসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে জমি পরিমাপের জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময়ের মধ্যে বিবাদী পক্ষ বিরোধপূর্ণ জায়গায় নতুন একটি ঘরও নির্মাণ করেন।
নির্ধারিত তারিখে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. ইব্রাহিম স্কেচ ম্যাপ তৈরির উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের প্রতিনিধি, বেসরকারি আমিন আবদুল জব্বারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সার্ভেয়ার আদালতের নির্দেশনা ও নোটিশ পড়ে শোনানোর পাশাপাশি জমি পরিমাপের প্রক্রিয়া সম্পর্কে উপস্থিত ব্যক্তিদের বিস্তারিত বুঝিয়ে দেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে বিবাদী পক্ষের কয়েকজন সার্ভেয়ারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ উপস্থিত হলে সার্ভেয়ার জমির পরিমাপ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় এক নারীকে পরিমাপ কাজে বাধা দিতে দেখা গেলেও পুলিশের উপস্থিতিতে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. ইব্রাহিম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উভয় পক্ষকে অবহিত করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরেজমিনে জমি পরিমাপের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করেই নিরপেক্ষভাবে স্কেচ ম্যাপ তৈরির কাজ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করার সুযোগ নেই। জমির প্রকৃত অবস্থান, সীমানা ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের ভিত্তিতেই প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। এদিকে, বিরোধপূর্ণ জমির সঠিক সীমানা নির্ধারণ এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তিতে আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম হাবিবুর রহমান রনি