বট গাছের নিচে পাঠদান
নওগাঁর ধামরইরহাটের গাংরা সরকারি প্রাথমিক দ্যালয়ের
নওগাঁর ধামরইরহাটের গাংরা সরকারি প্রাথমিক দ্যালয়ের বয়স শত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শ্রেণীকক্ষ সংকট দূর হয়নি। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট করে বটগাছের নিচে পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। জানা যায় যে, উপজেলার উমার ইউনিয়নের গাংরা গ্রামে ১৯২০ সালে গাংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। এটি উপজেলার অন্যতম প্রাচীন একটি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়টি ১৯৯৫-৯৬ অর্থ বছরের তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ওই ভবনের একটি অফিস হিসাবে ব্যবহার করা হয়। অপর দুটি কক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে ক্লাস রুম হিসেবে। দুই শিফটে এ বিদ্যালয়ে পাঠদান পরিচালনা করা হয়। প্রথম শিফটে প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর পাঠদান চলে। এছাড়া পঞ্চম শ্রেনীকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রথম শিফট থেকে পাঠদান করা হয়। সেক্ষেত্রে মোট শ্রেণীকক্ষের প্রয়োজন চারটি। আছে মাত্র দুটি। প্রয়োজনের তাদিদে সিঁড়ি ঘরটিকে সংস্কার করে শিক্ষকরা সেটিও ক্লাস রুম হিসেবে ব্যবহার করছেন। শ্রেণীকক্ষ সংকটের কারণেে একটি শ্রেণীকে সবসময় বারান্দায় অথবা বটগাছ না হয় আম গাছের নিচে ক্লাস নিতে হয়। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে ১৪১ জন শিক্ষার্থী এবং প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন।
গতকাল ২৩ আগস্ট ২০২২ এ গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে নিয়ে বটগাছের নিচে খোলা আকাশে পাঠদান করছেন। তাকে সহযোগিতা করছেন সহকারী শিক্ষক শহীদুল ইসলাম। তবে বটগাছের চারদিকে সুন্দর করে ইট, সিমেন্ট, বালু দিয়ে বাঁধানো ও প্লাস্টার করা হয়েছে। দিনের পর্যাপ্ত আলো, প্রাকৃতিক বাতাস ও গ্রামের মরোরম পরিবেশে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করছে। তবে বর্ষাকালে তাদেরকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
পঞ্চম শ্রেণীর প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী জোনাইদ বাবু জানান, অনেক কষ্ট করে ক্লাস করতে হচ্ছে। খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে বর্ষাকালে পানিতে শরীর ও বইখাতা ভিজে যায়। অনেক সময় পানিতে ভেজার কারণে জ্বর, সর্দি ও অন্যান্য রোগ হয়। একই ক্লাসের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন জানান, অনেক রোদ ও গরমের কারণে বাইরে ক্লাস করা খুবই কষ্টদায়ক হয়ে পড়ে। তারপরও ক্লাস করতে হয়। একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে আমাদের এ সমস্যা থাকতো না। অপর শিক্ষার্থী রমজান আলী আক্ষেপ সুরে জানান, অনেক বড় বড় স্যার বিদ্যালয়ে এসে বলে নতুন ভবন নির্মাণ হবে। কিন্তু বাস্তবে তার কোন প্রতিফলন হয়নি। আর তিন মাস পর আমাদের এ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন শেষ হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জান্নাতুন ফেরদৌস বলেন, বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ভেঙে ফেলার পর থেকে শ্রেণী সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি এবং বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে যে ভবনে ক্লাস নেওয়া হয় সেটির বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি চুঁইয়ে পড়ে। তবে সংস্কার করে সেটি ব্যবহার যোগ্য করা হয়েছে। এক্ষুনি একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে শ্রেণী সংসট সমস্যা থাকবে না। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আনন্দে পাঠ গ্রহণ করতে পারবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আলী হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা শিক্ষা কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। একটি কার্যবিবরণী তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ডব্লিউবি