জীবন যুদ্ধে হার না মানা এক যোদ্ধার কাহিনি
দৈনিক বিজয় নিউজ মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধিঃ
জীবনযুদ্ধে হার না মানা এক যোদ্ধা নগেন চন্দ্র নাথ (৫২)। পঙ্গু হলেও জীবন-জীবিকার তাগিদে বেঁচে নেননি ভিক্ষা ভিত্তি। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ গ্রামের মহেন্দ্র চন্দ্র নাথের ছেলে তিনি। মির্জাগঞ্জ মাজার মোড়ে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান দিয়ে চলছে ওষুধ খরচ, পরিবারের ভরণ-পোষণ ও ছেলের লেখাপড়া। এক সময় সুস্থ সবল জীবন ছিল তার। দিনমজুরি করে বেশ ভালোভাবেই চলছিল নগেনের জীবন। পরিবার নিয়ে সুখে-শান্তিতে দিন কাটাতেন। কিন্তু হঠাৎ একটা ঝড়ে তছনছ হয়ে গেল জীবনটা। নিয়তির নির্মম খেলায় শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন আজ তার দুই পা। সময়টা ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর। ভয়াল সেই সিডরের রাত। ঘূর্ণিঝড় সিডরের তাণ্ডবে জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় উপজেলার রাস্তা-ঘাট। পানিতে থৈথৈ রাস্তা দিয়ে সেই রাতে বাজারে যাচ্ছিল নগেন। কোনো কিছুতে সেসময় পায়ে আঁচড় লাগে বলে জানান নগেন। শুরু হয় পায়ে জ্বালা-যন্ত্রণা। পরদিন বরিশাল শেবাচিমে ডাক্তার দেখান। রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বলেন, বিষাক্ত কিছু পায়ে কামড় দিয়েছে। কিছু দিন পরে ২ পা ফুলে ফোটা হয়ে যায়। পরে শেবাচিমে ২ পা কেটে ফেলা হয়। অতিরিক্ত বেদনানাশক ওষুধ খাওয়ায় খাদ্যনালিও ছিদ্র হয়ে যায়। পরে খাদ্যনালি অপারেশন করা হয়। এখন আর যেন পেরে উঠছে না নগেন। ছোট্ট এই দোকান চালিয়ে ২ মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন। ১৮ বছরের ছেলে জয় দেবনাথ সুবিদখালী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। নগেন বলেন, এখন আমি খুবই অসহায় হয়ে পড়েছি। দোকানে মালামাল উঠানোর মতো অর্থ নাই। সবকিছু কিনে খেতে হয়। সংসারের উপার্জনের মতো আর কেউ নাই। ভিক্ষা পছন্দ করি না। যতদিন বাঁচবো সৎভাবে পরিশ্রম করে চলবো। কিছু সহায়তা পেলে দোকানে জিনিসপত্র উঠাতাম। শুধু বসবাসের জন্য মাত্র ৭ শতাংশ জমি ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ নাই।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ আল মামুন