চাঁদপুরে মসজিদের খতিবকে হত্যাচেষ্টা, অভিযুক্ত বিল্লালকে আটক
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫, চাঁদপুর সদর উপজেলার প্রফেসর পাড়া মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে এই হামলা সংঘটিত হয় । হামলার শিকার: মাওলানা আ.ন.ম. নূরুর রহমান মাদানি (৬০), চাঁদপুরের গুনরাজদী এলাকার বাসিন্দা। তিনি মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক এবং বিভিন্ন মসজিদে নিয়মিত খুতবা দিতেন। অভিযুক্ত: বিল্লাল হোসেন (৫০), সদর উপজেলার মনোহরখাদি গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর পুত্র। পেশায় কাঁচামালের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং শহরের বকুলতলায় তার বসবাস।
হামলার পটভূমি ও কারণ কয়েক সপ্তাহ আগে এক খুতবায় খতিব নূরুর রহমান হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে "ইসলামের বার্তাবাহক" হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন। এই বক্তব্যে বিল্লাল হোসেন ব্যক্তিগতভাবে ক্ষুব্ধ হন এবং পরিকল্পিতভাবে হামলার উদ্যোগ নেন। তার ব্যবহৃত চাপাতিতে লেখা ছিল: "আমার নবীজিকে অপমান করার কারণে তাকে হত্যা করা হলো"
জুমার নামাজ শেষে বেশিরভাগ মুসল্লি মসজিদ ত্যাগ করলে খতিব সাহেব ভেতরে নামাজ আদায় করছিলেন। বিল্লাল হঠাৎ একটি মোড়ানো চাপাতি বের করে তার মাথা ও কানের গোড়ালিতে বারবার কোপাতে থাকেন । মুসল্লিরা তৎক্ষণাৎ বিল্লালকে আটক করে পিটুনি দেন এবং পুলিশে হস্তান্তর করেন। আহতের অবস্থা খতিবের কানের গোড়ালিতে গুরুতর আঘাত লাগায় ১২টি সেলাই দেওয়া হয়। তাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং মাথার সিটি স্ক্যানের পর পর্যবেক্ষণাধীন রাখা হয়েছে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. বাহার মিয়া নিশ্চিত করেছেন যে বিল্লালকে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয়েছে। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দল,包括 জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস, এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। চাঁদপুর জামায়াতের সেক্রেটারি এডভোকেট শাহজাহান মিয়া দাবি করেছেন: "সন্ত্রাসীকে কঠোর শাস্তি দিতে হবে" । বিল্লাল হামলার আগে খুতবা শেষে খতিবের সাথে আলোচনা চাইছিলেন, কিন্তু মুসল্লিরা তাকে বাধা দেন। খতিবের ছেলে আফনান তাকি ঘটনার কারণ বুঝতে না পারলেও তা "নবী (সা.)-সংক্রান্ত বিষয়" বলে উল্লেখ করেছেন।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমেদ