জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসবিরোধী বিক্ষোভ, (স্লোগান) ‘বিএনপির অনেক গুণ, পাথর মেরে মানুষ খুন’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসবিরোধী বিক্ষোভ, (স্লোগান) ‘বিএনপির অনেক গুণ, পাথর মেরে মানুষ খুন’
ছবিঃ মোঃ নাঈম আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটে বুধবার (৯ জুলাই) বিকেল ৬টায় ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ (সোহাগ, ৩৯)-কে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও ইট-পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে প্রতিবাদের ঢেউ ওঠে । প্রাথমিক তদন্তে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও পূর্ব শত্রুতাকে হত্যার কারণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে ।

শুক্রবার (১১ জুলাই) রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়ে রায় সাহেব বাজার-তাঁতিবাজার-মিটফোর্ড হাসপাতাল ঘুরে ক্যাম্পাসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। 

স্লোগান ও বক্তব্য শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে以下 স্লোগান দেন:"অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন!" "যুবদলের অনেক গুণ, পাথর মেরে মানুষ খুন!" "বিএনপি, চাঁদাবাজ; চাঁদা তোলে পল্টনে, ভাগ যায় লন্ডনে!" "মিটফোর্ড খুন কেন? বিএনপি জবাব দে!"

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য: মাসুদ রানা (পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ) "৫ আগস্টের পর আমরা চেয়েছিলাম চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ। হাসিনা যাওয়ার পর থেকেই একটি দল চাঁদাবাজি শুরু করেছে... প্রয়োজনে আবার জুলাই হবে।" জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে সামাজিক দায়বদ্ধতার ইঙ্গিত। মো. নূর নবী (ইসলামিক স্টাডিজ) "মিটফোর্ডে এই পাথর আমার ভাইয়ের বুকে পড়েনি, আমার বুকেই লাগেছে... এখানে যেমন ছাত্রলীগ বিশ্বজিৎকে হত্যা করেছিল, তারই পুনরাবৃত্তি ঘটানো হয়েছে।"
পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সহিংসতার সাথে তুলনা ফয়সাল মুরাদ (বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ) "সারাদেশে নৈরাজ্য মেনে নেব না। বিএনপির সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ না হলে জনতা আবার রাস্তায় নামবে।"

জাতীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রাসঙ্গিক তথ্য গ্রেপ্তার ও তদন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মাহমুদুল হাসান মহিন (৪১) ও তারেক রহমান রবিন (২২)-সহ মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিনের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে

রাজনৈতিক তীব্র প্রতিক্রিয়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল এই হত্যাকাণ্ডকে "পৈশাচিক" আখ্যা দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ইসলামী আন্দোলন অভিযোগ করেছে: "গত জুলাইয়ের পর থেকে বিএনপির সন্ত্রাসী নেতাকর্মীরা শতাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত" । দেশব্যাপী বিক্ষোভ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 2, রংপুর 7 ও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে 8 একইদিনে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। রংপুরের শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন: "চাঁদাবাজের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও!" ।

 

শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হত্যাকাণ্ডের তাৎক্ষণিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত। বিএনপির চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ উৎখাত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষায় সরকারের কঠোর পদক্ষেপ। এই প্রতিবাদ কেবল একটি হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধেই নয়, বরং রাষ্ট্রে সন্ত্রাসের সংস্কৃতি রোধে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় প্রতিরোধের ডাক।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমে