নাইক্ষ্যংছড়ি'র ২৮০নং আলীক্ষ্যং মৌজার হেডম্যানের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন গরিব অসহায় খেটে খাওয়া মানুষ
দৈনিক বিজয় নিউজ নিজস্ব প্রতিনিধি:
বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি'র বাইশারী ইউনিয়নের ২৮০নং আলীক্ষ্যং মৌজার হেডম্যান মংথোয়াইলা মার্মার নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন গরিব অসহায় খেটে খাওয়া মানুষ। জায়গা দখল, ভূয়া রিপোর্ট, ভিন্নভাবে প্রান-নাশের হুমকির। মংথোয়াইলা হেডমেনের হুমকির মুখে ২৮০/২৮১/২৮২ নং মৌজার বাসিন্দারা। জানা যায়, মংথোয়াইলা হেডম্যান নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে ২৮০নং আলিক্ষ্যং মৌজা ২৮১নং কৈয়ারঝিরি মৌজা ২৮২নং কামিরছড়া৷ মৌজা বাসিন্দারা স্বৈরাচার সরকার হইতে এই পর্যন্ত প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন। তার অত্যাচার থেকে মুক্তি পাবার জন্য সামাজিকভাবে প্রশাসনের বিভিন্ন স্থানে দারস্থ হলেও ওর থেকে বাঁচার জন্য এই পর্যন্ত কেউ প্রতিশ্রুতি দেয়নি। স্থানীয়রা জানায়, আমাদের জায়গা দখল করছে মংথোয়াইলা হেডম্যান, তিনি আলীক্ষ্যং মৌজার সাবেক হেডম্যান চহ্লামং মার্মার সিল স্বাক্ষর ব্যবহার করে অনেকগুলো ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছেন। গত বছরে ১০শে অক্টোবর সাবেক হেডম্যান চহ্লামং মার্মা’র জাল সিল স্বাক্ষরসহ ধরা পড়ে হেডম্যানের মুহুরি আব্দুর রশিদ ও জয়নাল আবেদীন।
বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, গত বছর মংথোয়াইলা হেডম্যানের মুহুরিকে জাল সিল স্বাক্ষরসহ হাতেনাতে আটক করার পর ৪টি হেডম্যান রিপোর্ট ও সাবেক হেডম্যানের সিল স্বাক্ষরগুলো আগুন পুড়িয়ে দিয়ে মুছলেখা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই বিষয়ে ২৮০ নং আলীক্ষ্যং মৌজার হেডম্যান মংথোয়াইলা মার্মা বলেন, আমি বান্দরবানে রাজার বাড়িতে পড়াশোনা করেছি, আমাকে হেডম্যান বানানো হয়েছে। আমি হেডম্যান হওয়ার পর থেকে আমি কারো জায়গা দখল ও ফোনে হুমকি দেয়নি, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।
চাই-শৈইচিং মার্মা বলেন, মংথোয়াইলা হেডম্যান তার গুন্ডা সন্ত্রাস বাহিনী দিয়ে আমার ফলস বাগান ও আমার বসত ভিটার অধিক অংশই দখল করে নিয়েছে। বাকি অংশটুকু দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে, আমাকে তার গুন্ডা সন্ত্রাস বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। আমি ভয়ে আমার গ্রাম ছেড়ে আমার প্রাণ বাঁচাতে বাইশারী নারিচবুনিয়া আমার বোনের বাসায় আশ্রয় নিয়েছি। দুই বছর ধরে আমার নিজ গ্রামে যেতে পারছি না, আমি খুব কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছি। উক্ত বিষয় নিয়ে, নাইক্ষ্যংছড়ি'র উপজেলায় থানা ও ইউএনও কাছে অভিযোগ করেছি কিন্তু প্রশাসন কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করাতে। মংথোয়াইলা হেডম্যানের হুমকি আরো বেড়েছে এবং হুমকি প্রদান কালে তিনি বলেন পুলিশ প্রশাসন আমার পকেটে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আমলে আমাকে কেউ কিছু করতে পারেনি, এখনো কেউ কিছু করতে পারবেনা। বাইশারী বাজারে এইসব কথা বলে আমাকে হেনস্ত করছে।
কৈয়ারঝিরি মৌজার হেডম্যান থংপ্রে ম্রো বলেন, আমি আমার পূর্বপুরুষের অধিকার অনুযায়ী, আমি বর্তমানে সপ্তম নাম্বারের হেডম্যান হই। ১৯০০শ বর্তমান ১০০/২৪ বছর ধরে জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে প্রধানকৃত মৌজার ম্যাপ সিট অনুযায়ী আমার মৌজা বাঁশি বিভিন্ন ধরনের ফলস বাগানসহ, কৃষি জমি চাষাবাদ এর মাধ্যমে দখলে রাখিয়া আমি আমার নৈতিক ও নেয় নীতি, ১১বছর হেডম্যানের দায়িত্ব পরিচালনা করছি। ম্যাপ সিটকর্তিক নির্ধারণ করা আমার মৌজায় আমি এলাকাবাসীর সুখে দুঃখে পাশে আছি। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মংথোয়াইলা হেডম্যানের অপকর্মের সত্যতা প্রকাশ ও এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে নতুন হেডম্যান নিয়োগ সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।