রাজশাহীতে প্রবাসীকে প্রেমের ফাঁদে, নারী কারাগারে
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
১৮ জুলাই ২০২৬ রাজশাহীর দামকুড়া থানার জোতরাবন গ্রামের এক নারীকে প্রবাসীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার চেষ্টা, চাঁদা দাবি ও হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে বিভাগীয় প্রেসক্লাব রাজশাহীর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মামলার বাদী মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা মো. আলী হোসাইন। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার বড় ভাই মো. আলী নুর দীর্ঘ আট বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। প্রায় চার মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে জোতরাবন গ্রামের বাসিন্দা প্রিয়া খাতুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আলী হোসাইনের দাবি, প্রিয়া খাতুন তার পূর্বের বিবাহ ও একটি সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন রেখে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার ভাইকে বিয়ের জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি যাচাই করতে গত ১৭ জুলাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা প্রিয়ার বাড়িতে গেলে স্থানীয়দের কাছ থেকে ওই নারীর বিরুদ্ধে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের কথা জানতে পারেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানার পর তারা ফিরে আসতে চাইলে প্রিয়া খাতুন, তার বাবা শুকুর আলী বাবু, মা কাজল রেখাসহ কয়েকজন তাদের পথরোধ করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পরে তিনি কৌশলে বের হয়ে দামকুড়া থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ১৭ জুলাই রাতে দামকুড়া থানায় মামলা (নং-০৯) দায়ের করা হয়। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত প্রিয়া খাতুনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, প্রিয়ার সাবেক স্বামী আবুল কালাম আজাদ রিংকুর বিরুদ্ধে যৌতুক, হত্যা চেষ্টা ও মারধরসহ প্রায় ১৯টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি ও একজন সরকারি কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, তারাও বিভিন্ন সময় একই ধরনের হয়রানি ও অর্থ আদায়ের শিকার হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। দামকুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল আলম বলেন, "প্রবাসীকে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।" উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো মামলার বাদীপক্ষের বক্তব্য। অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর বিচারিক সত্যতা তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ রাজিব খাঁন