ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিলের পানিতে ঝাঁপ দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না, দেবিদ্বারে ছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিলের পানিতে ঝাঁপ দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না, দেবিদ্বারে ছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার
ছবিঃ সুমন আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

২০ জুলাই, ২০২৬ ​কুমিল্লার দেবিদ্বারে অষ্টম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ডালপাড় বিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। ​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের রমিজ মিয়ার ছেলে মো. সবুজ মিয়া (২৪) এবং আবুল হোসেনের ছেলে মো. ইসমাইল (২৯)। তাঁরা সম্পর্কে খালাতো ভাই।

​ঘটনার বিবরণ: মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুলাই সকালে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের বারেরা ফুলগাছতলা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করা হয়। পরে একটি অজ্ঞাত বাড়িতে আটকে রেখে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ঘটনাটি কাউকে জানালে ভুক্তভোগীকে প্রাণনাশের পাশাপাশি অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে ভুক্তভোগী সেখান থেকে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানান।

​আইনি পদক্ষেপ: ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চালানো হলেও পরবর্তীতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত ৮ জুলাই ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন এবং আদালতে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করায়।

​পুলিশের অভিযান: অভিযানে নেতৃত্বদানকারী দেবিদ্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইমাম হোসেন জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কসবা উপজেলার ডালপাড় বিলের মাঝখানে একটি অস্থায়ী ঘরে আসামিদের অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। সেখানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা বিলের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ধাওয়া করে তাঁদের আটক করতে সক্ষম হয়।

​এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার ১১ দিনের মাথায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁরা কোনো নারী পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত কি না, সে বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ