রাজশাহী গোদাগাড়ীতে শীর্ষ মাদক কারবারি কালাম গ্রেপ্তার
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মহিশালবাড়ী সাগরপাড়া গ্রামের চিহ্নিত মাদক কারবারি আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও গোদাগাড়ী থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। সোমবার সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন আবুল কালাম আজাদ। সম্প্রতি তিনি এলাকায় ফিরে প্রকাশ্যে চলাফেরা শুরু করেন এবং পুনরায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ওঠে। সরকারের চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে তাকে নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। গত ১৯ জুলাই একটি অনলাইন গণমাধ্যমে ‘স্ত্রীসহ গোদাগাড়ী থানার ওসির কক্ষে মাদক কারবারি আজাদ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করলে আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই দিনে তার স্ত্রী আরমিনা আক্তারও মুঠোফোনে সাংবাদিককে হুমকি দেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিষয়টি রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ এবং রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানের নজরে আসে। পরে ডিআইজির বিশেষ নির্দেশনায় ডিবি পুলিশ ও গোদাগাড়ী থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তিনি এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এছাড়া নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অর্থের জোগানদাতা হিসেবেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসার মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার আয়-সম্পদের উৎস ও অবৈধ সম্পদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্তপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত ও তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ রাজিব খাঁন