নৃশংসতা হার মানল পৈশাচিকতাকে: কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ থানার শিশু ঝুমুর ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামির মৃত্যুদণ্ড
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ থানায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী তাফরিন সুলতানা ঝুমুরকে অপহরণের পর নির্মমভাবে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে হত্যার ঘটনায় বহুল প্রতীক্ষিত মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের দায়ে আদালতের রায়ে মামলার একমাত্র আসামি মফিজুল ইসলাম মফুকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিজ্ঞ বিচারক ইয়াসির আরাফাত অত্যন্ত সংবেদনশীল এই মামলার রায় প্রদান করেন।
যেভাবে ঘটনাটি ঘটেছিল:
মামলার বিবরণী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নিষ্পাপ শিশু তাফরিন সুলতানা ঝুমুর প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও স্কুল শেষ করে আনন্দচিত্তে বাড়ির দিকে রওয়ানা হয়েছিল। কিন্তু নরপশু মফিজুল ইসলাম আগে থেকেই ওঁত পেতে ছিল। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথিমধ্যে ফাঁকা পেয়ে কৌশলে শিশু ঝুমুরকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় সে। এরপর এলাকার একটি নির্জন ধানী জমিতে নিয়ে শিশুটির ওপর পৈশাচিক নির্যাতন ও জোরপূর্বক ধর্ষণ চালায় ওই নরপিশাচ। আসামির অমানুষিক ও নিষ্ঠুর নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে অবুঝ শিশুটি যখন বাঁচার জন্য তীব্র আকুতি জানায় এবং চিৎকার করার চেষ্টা করে, তখন ঘাতক মফিজুল তার মুখ ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা নিশ্চিত করে। হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ ধানী জমিতে ফেলে সে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনতার যৌথ প্রচেষ্টায় বর্বরোচিত এই ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচিত হয় এবং ঘাতককে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া, নিবিড় তদন্ত, যুক্তিতর্ক ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আজ আদালত এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। বিচারপ্রার্থী পরিবার ও এলাকাবাসী আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং রায়টি দ্রুত কার্যকরের জোরালো দাবি জানিয়েছেন, যাতে আগামীতে আর কোনো শিশুর জীবন এমন নরপিশাচদের গ্রাসে হারিয়ে না যায়।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ