লাকসামে রাতের আঁধারে সড়ক বিভাগের কোটি টাকার জমি ভরাট করে দখলের পাঁয়তারা, জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

লাকসামে রাতের আঁধারে সড়ক বিভাগের কোটি টাকার জমি ভরাট করে দখলের পাঁয়তারা, জলাবদ্ধতার আশঙ্কা
ছবিঃ সুমন আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

​কুমিল্লার লাকসামে রাতের আঁধারে সড়ক ও জনপথ (সড়ক) বিভাগের কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৩৬ শতক জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করে অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে। এতে যেমন সরকারি সম্পত্তি বেহাত হচ্ছে, তেমনি বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ জলাধার। ফলে স্থানীয় পৌর এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও ফসলি জমি ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ​গত বৃহস্পতিবার রাতে লাকসাম-মুদাফফরগঞ্জ সড়কের পৌর এলাকার মিশ্রী এলাকায় সড়ক বিভাগের এ জায়গা দখলের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কুমিল্লা সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাদী হয়ে লাকসাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ​সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ লাকসাম-মুদাফফরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কটি দিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের চাঁদপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের শত শত ভারী ও হালকা যানবাহন নিয়মিত চলাচল করে। এই সড়কে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ৮০ ফুট জায়গা অধিগ্রহণ করে রেখেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধিগ্রহণকৃত এই জায়গার একাংশ রাতের বেলা বালু ফেলে ভরাট করে ফেলেছে প্রভাবশালী চক্রটি। মহাসড়কটির পাশেই রয়েছে একটি প্রাকৃতিক জলাধার, যা সরাসরি ডাকাতিয়া নদীর সাথে সংযুক্ত। এই অবৈধ ভূমি ভরাটের কারণে জলাধারটির স্বাভাবিক প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ​স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, জলাধার ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে লাকসাম পৌরসভা এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী লালমাই উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে ব্যাহত হবে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন স্থানীয় কৃষকরা। ​এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী জানান, "সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের কোনো সুযোগ নেই। রাতের আঁধারে বালু ফেলে জায়গা দখলের খবর পেয়েই আমরা দ্রুত লাকসাম থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগ দিয়েছি। দ্রুতই প্রশাসনের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সরকারি জমি উদ্ধার করা হবে।" ​স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ অবিলম্বে এই অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জলাধারটি উন্মুক্ত করে পানি নিষ্কাশনের পথ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ