সারিয়াকান্দিতে সাবেক সেনা সদস্য হত্যা: আইন হাতে তুলে নেওয়ার ভয়াবহ সংস্কৃতি ও বিচারের আকুতি
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ষাটোর্ধ্ব অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মুসলিম উদ্দিনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাটি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর এক চরম আঘাত। একজন ব্যক্তি যিনি জীবনের দীর্ঘ সময় দেশের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন, শেষ বয়সে তাকে এভাবে নির্মম পরিণতি ভোগ করতে হলো। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করলেও এই হত্যাকাণ্ড সমাজ ও বিচার ব্যবস্থার সামনে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অপসংস্কৃতি যেকোনো সভ্য সমাজে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার বিচার হবে প্রচলিত আইন ও বিচারালয়ের মাধ্যমে। অপরাধের সত্যতা থাকুক বা না থাকুক, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত তকমা লাগিয়ে বিচারবহির্ভূতভাবে কাউকে হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো ক্ষোভ বা সামাজিক বিরোধের জের ধরে এভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে প্রাণ কেড়ে নেওয়ার ঘটনা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেই মনে করিয়ে দেয়।
বিচারহীনতার শঙ্কা ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা ঘটনার দ্রুত প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্থানীয় প্রশাসন ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে, যা প্রশংসনীয়। তবে বিচারিক প্রক্রিয়াকে শুধু এই আংশিক গ্রেপ্তারে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী এবং সরাসরি অংশ নেওয়া বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রশাসনিক গাফিলতি বা রাজনৈতিক প্রভাবে অপরাধীরা ছাড় পেলে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা আরও বাড়বে। সেনা অধিকার পরিষদের দাবি ও গণদাবি এ ঘটনায় পটুয়াখালী জেলা এবং কলাপাড়া উপজেলা অবসরপ্রাপ্ত সেনা অধিকার পরিষদ তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সাবেক এই সেনাসদস্যের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—এই হত্যাকাণ্ডের বিচার যেন ত্বরান্বিত হয় এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়, যেন ভবিষ্যতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সাহস না পায়।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ ইডি