ব্রাহ্মণপাড়ায় 'ভুল চিকিৎসায়' স্কুলছাত্রের পায়ে পচন, ডাক্তারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ব্রাহ্মণপাড়ায় 'ভুল চিকিৎসায়' স্কুলছাত্রের পায়ে পচন, ডাক্তারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
ছবিঃ সুমন আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধি:

​কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় চিকিৎসা দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং ভুল চিকিৎসার কারণে ফয়সাল সরকার (১৬) নামে এক নবম শ্রেণির ছাত্রের পায়ে পচন ধরার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তথাকথিত চিকিৎসক ডা. বুলবুল বাশারের (৬৫) বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ​শনিবার (১৬ আগস্ট) ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা মো. মোস্তফা সরকার বাদী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত বুলবুল বাশার উপজেলার চৌকাস এলাকার মৃত সদ্দু মিয়ার ছেলে। ​ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে ​অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট দুপুরে 'প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ' ফুটবল টুর্নামেন্টের ম্যাচ খেলার সময় চৌকাস জাহানারা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ফয়সাল সরকারের ডান পায়ের আঙুলে গুরুতর জখম হয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে তাকে শশীদল ইউনিয়নের দেউছ বাজার সংলগ্ন ডা. বুলবুল বাশারের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফি বাবদ সাড়ে তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়।

​চিকিৎসার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ​পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম দিনে সাড়ে তিন হাজার টাকা নেওয়ার পর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও কিশোরের আঘাতের কোনো উন্নতি হয়নি। এরপর উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে ওই চিকিৎসক পুনরায় রোগীর বাসা থেকে আরও ২,০০০ টাকা এবং বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও ১,০০০ টাকা গ্রহণ করেন। এভাবে মোট ৬,৫০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলেও কিশোরের শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি; বরং তার পায়ের ক্ষতস্থানে দ্রুত পচন ধরতে শুরু করে। ​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাথমিক মূল্যায়ন ​পায়ের অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা ক্ষতস্থান পরীক্ষা করে জানান যে, ভুল চিকিৎসা এবং যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করার কারণেই কিশোরের পায়ে পচন ধরেছে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

​ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিক্রিয়া ​কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা মোস্তফা সরকার বলেন, "ডাক্তারের চরম গাফিলতি ও ভুল চিকিৎসার কারণেই আজ আমার ছেলের পায়ে পচন ধরেছে। সে এখন বিছানায় কাতরাচ্ছে, যেকোনো বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও এই ভুয়া চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।" ​অভিযুক্ত চিকিৎসকের বক্তব্য ​এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ডা. বুলবুল বাশার আংশিক ভুল স্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান, "রোগীকে যখন আমার চেম্বারে নিয়ে আসা হয়, তখন তার পায়ের অবস্থা এমনিতেই আশঙ্কাজনক ও মারাত্মক ছিল। আমি ক্ষতস্থান ভালোভাবে পরিষ্কার করে সেলাই করে দিয়েছিলাম এবং পরদিন তাকে আবারও আসার পরামর্শ দিই। তবে এখন মনে হচ্ছে, রোগীর পায়ের তৎকালীন অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সেভাবে সেলাই করা আমার ঠিক হয়নি।" ​প্রশাসনের পদক্ষেপ ​এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ ​সুমন আহমেদ