অভিবক্ত মতলবে মফস্বল সাংবাদিকতা পথিকৃৎ ও কিছু কথা!
দৈনিক বিজয় নিউজ কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
২৭ ডিসেম্বর-২০২৩ এই দিনে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন অভিবক্ত মতলবের মফস্বল সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ, অগ্রপথিক,সফল সংগঠক ও সাবেক ছাত্রনেতা আবুল কাশেম পাটোয়ারী মৃত্যুবরণ করেন। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের প্রাচীন একটি জনপদ হচ্ছে মতলব। ইতিহাস, ঐতিহ্য,শিক্ষা ও শান্তির পাদপিঠ বৃহত্তর মতলব উপজেলার মফস্বল সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন মরহুম আবুল কাশেম পাটোয়ারী। তাঁর নামটি মতলবের প্রতিটি সাংবাদিকের মনে চির জাগরুক থাকবে। হয়ত এমনটি ছিলো চাওয়া, কিন্তু আজকের চিত্র দেখে সেটা ভুল হিসাবে প্রমাণিত হলো। তাদের মুখের কথা আর কাজের বাস্তবতা যেন আকাশ-পাতাল ফারাক। তবে এর মাঝে কিছু মানুষ আছে যারা তাঁকে মনে মনিকোঠায় আগলে রেখেছে পুজনীয় ভালবাসা করে। আবুল কাশেম পাটোয়ারী ১৯৬৩ সালে ২২ মে দক্ষিন টরকীর পাটোয়ারী বাড়ির সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মিন্নত আলী পাটোয়ারী ও মাতা আনোয়ারা বেগম এর তিন পুত্র ও দুই কন্যার মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। বৈবাহিক জীবনে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ছিলো তাঁর ছোট্ট সংসার।
আবুল কাশেম পাটোয়ারী মতলব প্রেসক্লাব এর প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম একজন। তিনি একাধিকবার প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসাবে অত্যান্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালণ করেছেন। যা অনেকের ক্ষেত্রে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আবুল কাশেম পাটোয়ারী ১৯৮৪ সাল থেকে অভিবক্ত মতলব উপজেলায় একজন মফস্বল সাংবাদিক হিসাবে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। তৎকালীন জাতীয় দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকার মাধ্যমে তিনি সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হন। সাংবাদিকতাকে ভালবেসে তিনি এই পেশার সাথে আজ অবধি পথ চলছেন। তিনি বৃহত্তর মতলবে একঝাঁক দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ সংবাদকর্মী তৈরীতে নব্বইয়ের দশকে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন (যদিও আজ সেটা অনেকেই অস্বীকার করে থাকেন)। তার একান্ত প্রচেষ্টায় অভিবক্ত মতলব প্রেসক্লাব জায়গাটি পেয়েছে এবং তার একান্ত উদ্যোগে ঘর ও আসবাবপত্র ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
মতলব থেকে প্রকাশিত গোলাম সারওয়ার সেলিম সম্পাদিত মতলর কন্ঠ পত্রিকার তিনি উপদেষ্ঠা সম্পাদক ছিলেন এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের মতলব পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক হিসাবেও ছিলেন। মতলবে থাকাকালিন সময় তিনি বেশ কয়েকটি ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে তিনি সর্বদা নির্ভিক। আবুল কাশেম পাটোয়ারী র্বতমানে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার প্রধান র্বাতা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন এবং বাংলাদেশ এডিটর ফোরামের সদস্য ছিলেন। আবুল কাশেম পাটোয়ারী বর্তমানের এই সময়ের আলোচিত একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাতায়ন২৪.কম এর সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা পরবর্তিতে বাতায়ন24নিউজ নামে পরিবর্তিত হয়ে চলমান রয়েছে। মতলব প্রেসক্লাবের সভাপতি থাকাকালিন তিনি মতলবের সাংবাদিকদেরকে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেন।
অসম্প্রদায়িক, মুক্ত চিন্তার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত ছিলেন তিনি। সাংবাদিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী আবুল কাশেম পাটোয়ারী একজন সামনের সারীর যোদ্ধা। তিনি সাংবাদিকদের সুরক্ষা অধীকার নিয়ে বহু সেমিনারে তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন। সাংবাদিক আবুল কাশেম পাটোয়ারী আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েও র্দীঘ তিন যুগের উপরে সংবাদপত্র নিয়ে পড়ে আছেন। বাংলাদেশের প্রয়াত একজন রাষ্ট্রপতি দেশের নামকরা প্রথম শ্রেনীর দৈনিক পত্রিকায় সাংবাদিকতার ব্যবস্থা করে দিলেও নীতি নৈতিকতার কারনে আবুল কাশেম পাটোয়ারী সে চাকুরীটি ছেড়ে দেন।
দেশের বহু সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন সাংবাদিক আবুল কাশেম পাটোয়ারীকে সেরা সংগঠক এবং সমাজ হিতৈষী হিসাবে সম্মাননা প্রদান করেছেন। সেসব সংগঠনগুলো হচ্ছে সাপ্তাহিক আজকের মতলব, ঢাকা সামাজিক সাংস্কৃতিক শিল্পীগোষ্ঠি, জয় বাংলা সাংস্কৃতিক পরিষদ, মতলব উত্তর প্রগ্রেসিভ ফোরাম, শিশু কিশোর পরিষদ। বাংলাদেশে নব্বইয়ের দশকের পর থেকেই প্রিন্ট র্জানালিজমের পাশাপাশ ইলেক্ট্রনিক র্জানালিজমও একটি ভিত্তির উপর দাড়িয়ে গেছে। আমাদের দেশে তথ্য প্রযুক্তির কারনে সাংবাদিকতার গতিশীলতা বেড়েছে একথা চোখ বন্ধ করে বলা যাবে। আমাদের উপজেলাও এ গতিশীলতা থেকে পিছিয়ে নেই। বর্তমান সময়ে সংবাদ কর্মীরা তথ্য প্রযুক্তির কল্যানে অতি দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করতে পারছেন এবং তা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে পারছে।
একজন সৎ ও আদর্শবান সাংবাদিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের কল্যানে অতি দ্রুত মানুষের মনের মনি কোঠায় ঠাই নিচ্ছে। সাংবাদিকদের জন্য এ এক বিরল অর্জন। বর্তমানে সাংবাদিকরা অনেক সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। অনেক প্রথিতযশা সাংবাদকর্মী নিজে চ্যানেল খুলে সংবাদ প্রচারের সুযোগ পাচ্ছেন। আজকের দিনে মফস্বল সাংবাদিকতার মান নিয়ে প্রায়ই কিছু প্রশ্ন উঠে। কিন্তু সেটা নিয়ে বসে থাকলে চলবেনা সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে। আমি মফস্বল সাংবাদিকতা করে নিঃস্ব হতে দেখেছি, রিক্ত হতে দেখেছি। তিনি কখনও পেশার টানে বা মায়ায় পড়ে অন্য কোন কাজে যুক্ত হননি। সবসময় নিজের মতো কাজ করে গেছেন মানুষের সেবায়।
একটা গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদপত্রকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ, সংবাদের পাঠক বা দর্শক কমেছে এ কথা ঠিক নয়, আমি এটি একেবারেই মানতে রাজি নই। একটা সময় সারাদেশে একটি টেলিভিশন ছিলো, যা এখন প্রায় ৫০ টি টেলিভিশনের অধিক রয়েছে। ৬/৭ টি পত্রিকা ছিলো এখন প্রায় ১ হাজারের অধিক দৈনিক পত্রিকা আছে। জাতীয় দৈনিক ২১৮ টি, আঞ্চলিক বাংলা দৈনিক ২৯৩টি, ইংরেজি জাতীয় দৈনিক ৪০ টি। ৪৮টি পত্রকা আছে যাদের প্রচার সংখ্যা এক লাখের বেশি। ১৪ টি অনলাইন টিভি চ্যানেল আছে সরকার অনুমোদিত। সেই সাথে সংখ্যা তত্ত্বের বিচারে পাঠক বেড়েছে । দেশ স্বাধীনকালে দেশে সাড়ে সাত কোটি লোক ছিলো, শিক্ষার হারও কম ছিলো আর সে হিসাবে পাঠক সংখ্যা ১০% ধরলে পাঠক ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার। এখন শিক্ষার হার বেশি লোক সংখ্যা ১৮ কোটি লাখ পাঠক হার যদি ১৫% হয় পাঠক সংখ্যা হবে ২ কোটি ৭০ লাখ। তা হলে পাঠক কমলো কোথায়, পাঠক বা দর্শক কমেনি বরং বেড়েছে। আমরা জানি আমাদের দেশে অনেক মানুষ আছে যারা সকালের।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ আবদুল্লাহ