পাবিপ্রবিতে ফের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, ভিডিও ধারণে সাংবাদিককে বাধা

পাবিপ্রবিতে ফের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, ভিডিও ধারণে সাংবাদিককে বাধা
ছবিঃ ভাস্কর চন্দ্র রায়

দৈনিক বিজয় নিউজ পাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ( পাবিপ্রবি)  নারীঘটিত কারণকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের  সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে সংঘর্ষের  ভিডিও ধারণ করতে গেলে  ঢাকা মনিটর ২৪ অনলাইন পোর্টালের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি আহনাফ মুনতাসীর পাঠানের মোবাইল ফোন কেঁড়ে নেওয়া হয় ও আঘাত করা হয়। ‎মঙ্গলবার ( ২৮ জুলাই)  মধ্য রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ‎প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, টিউশন শেষে তিনি রাত দশটার দিকে ক্যাম্পাস গেটে এসে দেখেন  পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী অলিভ,রায়হান, রকি, স্মরন, রিফাত, পলক ও শাহাজালাল এবং গণিত বিভাগের ইমরান ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। ইতিহাস শিক্ষার্থী রাকিব হাসান ও আশফাকুর রাহাত এবং  গনিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান গতকাল ক্যাম্পাসে বহিরাগত এক ছেলে এবং এক মেয়েকে  আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায়। আপত্তিকর অবস্থায় থাকায় তাদের পরিবারের কাছে ফোন দেওয়া হয়। তার পরিবার জানায় এটি পরিবার জানে তারা দুজন সম্পর্কে লিপ্ত। তারা জানায় পদার্থ বিজ্ঞানের একজন বড় ভাই আছে এজন্য ঘুরতে আসছে।

‎পরবর্তীতে পদার্থ বিজ্ঞানের কিছু ছেলে ক্যাম্পাসে আসা বহিরাগতদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য সন্ধ্যার পর  রাকিব ও ইমরানের সঙ্গে দেখা করে এবং কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে  পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী পলক উচ্চস্বরে জানতে চায়,  রাহাত কে? তখন রাহাত এসে তাকে ধাক্কা দিয়ে বলে সিনিয়রদের সম্মান করতে জানো না। পরবর্তীতে দুই গ্রুপের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় । এর মাঝে সাংবাদিক এসে ভিডিও করতে গেলে তার ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। ফোন কেড়ে নেন পদার্থবিজ্ঞান ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের  শিক্ষার্থী রিফাত। সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিলে তার বন্ধুরা তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকের বন্ধুদের বাঁশ দ্বারা আঘাত করে এবং কিল-ঘুষি দেয়।

‎‎লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ বলেন, আমার  সাংবাদিক বন্ধুর ফোন কেড়ে নিলে আমরা এগিয়ে আসি এবং আমাদের উপর বাঁশ আক্রমণ করে। কলার ধরে টানাহেঁচড়া করে। আমাদের কিল-ঘুুষি দেয়। ‎অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান স্মরণ বলেন, আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। উত্তেজনার পরিবেশের সৃষ্টি হলে  ভিডিও করলে আমার বন্ধু রিফাত ফোন কেড়ে নেয়। আমরা জানি না সে সাংবাদিক। জানার পরে ফোন ফিরিয়ে দেই। তার (আহনাফ) বন্ধুরা মুখ খারাপ করে গালি দিলে আমি বাঁশ নিয়ে আসি এবং হাতাহাতি হয়। ‎অভিযুক্ত পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিফাত বলেন, আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল হঠাৎ করে আহনাফ এসে ভিডিও ধারন শুরু করে। পূর্বে আমাদের এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের মধ্যে ঝামেলা থাকার কারণে ভেবেছিলাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিও করছে। এটা ভেবে আমি ফোন কেড়ে নেই। যখন জানতে পারি সাংবাদিক তখন ফোন ফিরিয়ে দেই।

‎ঢাকা মনিটর২৪ এর সাংবাদিক আহনাফ বলেন, যখন আমি আসি তখন  মারামারি হচ্ছিলো। তখন আমি আমার পেশাগত দায়িত্ব পালন করার জন্য  ভিডিও ধারণা করতে গেলে ভিডিও ধারণে বাঁধা দেয়,  আমাকে আঘাত করে পরে ফোন ছিনিয়ে নেয়। আমি হাতে ব্যথা  পাই। ‎উল্লেখ্য, ঘটনার পর রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান, ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদুল হক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর ড. আতিকুর রহমান এবং লোক প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান আল ফাহাদ ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। ‎বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনো ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় সহকারী প্রক্টররাও উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ ভাস্কর চন্দ্র রায়