দুই বছর মামার বাড়িতে ‘লুকোচুরি’, শেষ রক্ষা হলো না ছাত্রলীগ নেতা মোবারকের!

দুই বছর মামার বাড়িতে ‘লুকোচুরি’, শেষ রক্ষা হলো না ছাত্রলীগ নেতা মোবারকের!
ছবি : সুমন আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে কেউ বেছে নেন পাহাড়ি পথ, কেউ বা ভিনদেশ। কিন্তু চট্টগ্রাম নগরীর দাপুটে এক ছাত্রলীগ নেতা বেছে নিয়েছিলেন একদম ঘরোয়া ও নিরাপদ এক উপায়—সোজা গিয়ে আশ্রয় নেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় নিজের মামার বাড়িতে! দীর্ঘ দুই বছর ধরে সেখানে কাটিয়েও শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়তে হলো তাকে। ​গ্রেফতারকৃত মোবারক হোসেন শুধু সাধারণ কোনো কর্মী নন; তিনি চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর ও পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক আলীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে বেশ পরিচিত মুখ। চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার শফিউল বাবু ও মারুফা বেগমের এই সন্তান ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরেই হাওয়া হয়ে যান এবং আশ্রয় নেন ব্রাহ্মণপাড়ায়। ​মামার বাড়ির আয়েশ নাকি গোপন আস্তানা? ​মামা বাড়িতে বসে দিন কাটলেও মোবারকের মাথার ভেতরে ঘুরছিল অন্য ধান্দা।

ব্রাহ্মণপাড়া ও চট্টগ্রামের দ্বৈত ঠিকানা ব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এক অদ্ভুত গোপন নেটওয়ার্ক। তার এই রুদ্ধদ্বার কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে যা যা ছিল: ​ মাঠ গরমের গোপন ছক: ব্রাহ্মণপাড়ার স্থানীয় নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সুকৌশলে একত্র করে এলাকায় আকস্মিক ঝটিকা মিছিল ও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ফন্দি আঁটছিলেন তিনি। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার আগেই পুলিশের মাস্টারস্ট্রোকের মুখে পড়ে যান। ​বিপদজনক ‘ডাবল গেম’: একদিকে মামার বাড়িতে আত্মগোপন, অন্যদিকে সুযোগ পেলেই সুকৌশলে চট্টগ্রামে গিয়ে ঝটিকা মিছিলে ঠিকই অংশ নিতেন মোবারক। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বরও চট্টগ্রাম নগরীর কোনো এক মিছিলে তার সরব উপস্থিতি ছিল। ​ভার্চুয়াল দুনিয়ায় সক্রিয়তা: মাঠের গোপন কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছিলেন দলীয় প্রচার-প্রচারণা। ভার্চুয়াল ভুবনে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে তার সরব উপস্থিতি নজর এড়ায়নি গোয়েন্দাদের।

​পুলিশের ভাষ্য: ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করে জানান, "দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণপাড়া ও চট্টগ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করে নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে গোপন বৈঠক চালিয়ে আসছিলেন মোবারক। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাহ্মণপাড়ায় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চূড়ান্ত প্রস্তুতিকালে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাকে পাকড়াও করা হয়েছে।" ​দুই বছর ধরে মামার বাড়ির আশ্রয়ে থেকে নানা কৌশলে রাজনৈতিক চাল চেলেও শেষ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও পার পেলেন না এই ছাত্রলীগ নেতা। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মোবারক হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে সোজা কুমিল্লা জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ